একসাথে বৃদ্ধ হবার স্বপ্নেই আমরা ঘর বেঁধেছি: এস আই টুটুল

ঘর ভেঙেছে তারকা দম্পতি এস আই টুটুল ও তানিয়া আহমেদের। দীর্ঘ ২৩ বছরের দাম্পত্যের ইতি টেনে বিচ্ছেদের পথে হেঁটেছেন তারা। চলতি মাসেই (৪ জুলাই) দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন গায়ক। তার নতুন স্ত্রী আমেরিকা প্রবাসী শারমিনা সিরাজ সোনিয়া।

টুটুল-তানিয়া ছিলেন দেশের শোবিজে অন্যতম সফল ও নন্দিত দম্পতি। তাদের বিচ্ছেদের খবর প্রকাশ্যে আসায় হতবাক ভক্তরা। এছাড়া শোবিজের অন্য তারকারাও অবাক হয়েছেন। তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

সে সকল কৌতুহল মেটাতেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বললেন এস আই টুটুল। এসময় তিনি জানান, আসলে অনেকদিন ধরেই তো একা ছিলাম। নিজের জীবনের প্রয়োজনেই একজন সঙ্গী খুঁজছিলাম। সেরকম ভাবনা থেকেই এই সিদ্ধান্ত।

গণমাধ্যমকর্মী থেকে শুরু করে ঘনিষ্ঠজনের কাছেও টুটুল ও তানিয়ার দম্পতির যে সেপারেশন বা বিচ্ছেদ হয়েছে সেটা এতদিন অজানা ছিল। সেখানে হঠাৎ নতুন ঘর বাধার খবর দিয়ে চমকে দিয়েছেন টুটুল।

তবে এই শিল্পীর দাবি, এখানে গোপনীয়তার কিছু নেই। আমি সবসময় খোলা বইয়ের মতো জীবন পার করেছি। দিনশেষে জীবনটাতো আমার। আর যেহেতু আমি অবিবেচক নই। তাই দুজনার সিদ্ধান্তেই এটি হয়েছে।

টুটুল ও তানিয়া বিয়ে করেছিলেন ১৯৯৯ সালে। এরপর থেকে সুখেই সংসার করে আসছিলেন। তাদের ঘর আলো করে পৃথিবীতে আসে দুই ছেলে ও এক মেয়ে। তিন সন্তানকে নিয়ে তানিয়া-টুটুলের সুখের অন্ত ছিল না।

কিন্তু সম্পর্কের মসৃণ পথেও বিষাদের কাঁটা গজায়। সেই কাঁটায় ক্ষত-বিক্ষত হয় ভালোবাসা। ঘনিয়ে আসে বিরহ-বিচ্ছেদের সুর। টুটুল ও তানিয়ার ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা একই। একসঙ্গে দীর্ঘদিন সংসার করার পর তাদের মনে হয়েছে, সম্পর্কটা ঠিক আগের মতো নেই। এটাকে টেনে নেওয়াও দু’জনের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই বিচ্ছেদের স্টেশনে নেমে দু’জন দুদিকে এগোলেন।

টুটুল বলেন, আমরা প্রায় ৬ বছর ধরেই সেপারেশনে ছিলাম। সবকিছুর বাইরে তানিয়া আমার বাচ্চাদের মা। তাই সেই শ্রদ্ধাশীল সম্পর্কের জায়গাটা আমি নষ্ট করতে চাই না। হবেও না কখনও। আমাদের এই দীর্ঘ সেপারেশন থেকে আজ অব্দি আমি কিন্তু সকল দায়িত্ব পালন করে গেছি এবং যাবো। আর গতবছর আমাদের অফিশিয়ালী ডিভোর্স হয়। তাই কেউ যেন না বলে বউ রেখে আমি দ্বিতীয় বিয়ে করেছি। আর সন্তানরা তো আমার কলিজার টুকরা। ওরা জানে। যোগাযোগও আছে।

তিনি বলেন, শারমিনের সাথে পরিচয় নিউইয়র্কে যখন আরটিভির রিয়েলিটি শোয়ের কাজ করি, তখন ও ছিল ইভেন্টের উপস্থাপক। সেখানেই প্রথম দেখা। সোনিয়াও গত ১২ বছর থেকেই সংসারবিহীন একা। তাই দুজন মিলেই সিদ্ধান্ত বিয়ে ও একসাথে থাকার।

দীর্ঘ দুই বছর ধরে গ্রীনকার্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন এসআই টুটুল। তবে গানের কাজে বছরের বেশির ভাগ সময় তিনি বাংলাদেশেই থাকেন। আর শারমিনা সোনিয়া দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ীভাবে নিউইয়র্কে থাকছেন। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই বলছেন আমেরিকায় স্থায়ী নিবাস গড়তেই গায়কের এমন সিদ্ধান্ত।

এ প্রসঙ্গে এস আই টুটুল বলেন, দেখুন। জীবনের এই পর্যায়ে আল্লাহর রহমতে আমার প্রাপ্তি অনেক। শুকরিয়া। একাধিকবার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছি। ভক্ত শ্রোতারা আমাকে ভালবাসে ভীষণ। তাদের গান শুনিয়ে প্রায় সারা বিশ্বে কনসার্ট করেছি। এখনও পারফর্ম করে যাচ্ছি। ঐসব বৈশ্বিক কোনো মোহ আমাকে জীবনে টানেনি। টানবেও না। যারা আমাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনে তারা জানেন আমি কেমন? তাই নিজের জীবনের এখন এমন একটা পর্যায়ে আমি বা সোনিয়া রয়েছি। তাতে একসাথে বৃদ্ধ হবার স্বপ্নেই আমরা ঘর করতে চাই। বাকিটা ওপরওয়ালার ইচ্ছা। আর আমার ভক্তদের দোয়া।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *