এ সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক জিয়াউল রোশান। ঈদে মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত সিনেমা ‘সাইকো’। অনন্য মামুন পরিচালিত এ সিনেমা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি
ঈদ কেমন কাটলো
মা–বাবার সঙ্গে বরাবরের মতো এবারের ঈদও ভালো কাটল। তিন দিন গ্রামের বাড়ি আখাউড়ায় মা–বাবার সঙ্গে ছিলাম। মা–বাবার বয়স বাড়ছে, এ সময়টা তাঁদের কাছে থাকাটাই বেশি উচিত। সন্তানেরা ছাড়া মা–বাবার সুখের তো আর কোনো কারণ থাকতে পারে না। তাই সব সময় চেষ্টা করি মা–বাবাকে সময় দিতে, হাসিখুশি রাখতে। ঈদে তাই গ্রামের বাড়িতে ছিলাম। আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছি। দাওয়াত খেলাম প্রচুর।
তার মানে পরিবারের সবার কাছে আবদারটাও একটু বেশি?
(হাসি)। সত্যিই তাই। আবদার তো আসলে সব সময় বেশিই থাকে। এখন বড় হয়ে গেছি তো, তারপরও…
মা–বাবা কি তাঁদের ছেলের বউ নিয়ে ঈদ করতে চান?
(হাসি)। চান না মানে…বলে তো। আমাদের তো বাগদান হয়ে আছে। আসলে তাড়াতাড়ি বিয়ের প্রোগ্রাম করে ফেলতে বলেন। পারিবারিকভাবে দুজনকে একসঙ্গে আলাপ করতেও বলেন। কিন্তু আমার হবু স্ত্রীর পড়াশোনাও তো শেষের পথে। আমার কাছে সময়ও চেয়েছে। পড়াশোনা শেষ হলেই দুই পরিবার বসে বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করবে। দুই পরিবার জানে আমাদের সম্পর্কের কথা। এখন বিয়েটা শুধু বাকি।
হবু শ্বশুরবাড়ির পক্ষ নায়ক ছেলে কেমন পছন্দ?
আমার বাগদত্তার পরিবার শুরুতে বিনোদন অঙ্গনের লোকজন নাকি খুব একটা পছন্দ করত না। সামনাসামনি আমাকে দেখার পর নাকি তাঁদের অনেক ভালো লেগেছে। (হাসি) এ জন্যই তাঁরা বিয়ে দিতে রাজি হয়েছে। বাকিটা জানি না। তবে ওর ( হবু স্ত্রীর) আব্বু–আম্মু মানুষ হিসেবে অসাধারণ। ওর মায়ের সঙ্গে ফোনে মাঝেমধ্যে কথাবার্তা হয়, ভীষণ আদর করেন আমাকে।
‘সাইকো’র সাড়া…
ভালোই। প্রেক্ষাগৃহ দর্শক পরিপূর্ণ। ‘সাইকো’ সিনেমার প্রতি দর্শকের যে আগ্রহ, সেটা দেখে ভালো লাগছে। ঈদে দর্শক অ্যাকশন ঘরানার ভালো গল্পের ছবি দেখতে চায়। আর ঈদের সিনেমা মানেই ‘মাসালা’। সাইকো সেই ধরনের সিনেমা। এতে নাচ, গান, অ্যাকশন সবই আছে। দর্শক সিনেমাটি পছন্দ করেছেন বলেই দ্বিতীয় সপ্তাহে হলের সংখ্যা বেড়েছে। চাপাবাজিতে একদমই বিশ্বাস করি না। যতটুকু দেখেছি তাতেই বোঝা যায়, ঢাকার বাইরে সিনেমাটি সুপার ডুপার হিট।
ঢাকায় কী অবস্থা?
সেন্সর দেরিতে হওয়ায় ঢাকায় কমসংখ্যক হলে সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে। যেজন্য ঢাকার অনেক দর্শক আমাদের সিনেমা দেখতে পারেননি বলে জানিয়েছেন। তবে যে ক’টি হলে মুক্তি পেয়েছে তাতে সাড়া ভালো।
দ্বৈত চরিত্রের চ্যালেঞ্জিং…
যে চরিত্রে চ্যালেঞ্জ রয়েছে সেটিই আমার পছন্দের। এতে আমি ‘কিলার’ ও ‘সিআইডি অফিসার’ চরিত্রে অভিনয় করেছি। দুজনার সংলাপ, চলন-বলন সবই ভিন্ন। সব মিলিয়ে চরিত্রটি চ্যালেঞ্জিং বটে।
আলোচনা-সমালোচনা…
এটি কেন হচ্ছে জানি না। সিনেমার ভালোমন্দ দর্শকই বলবেন। কিন্তু এখানে বেশি কথা বলছেন সিনেমা-সংশ্লিষ্টরা। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। সব রিভিউ সিনেপ্লেক্সকেন্দ্রিক। কাদা ছোড়াছুড়ি কারও কাছে থেকে আশা করি না। সিনেমা যদি ভালো চলে তাহলে লাভ ইন্ডাস্ট্রির। প্রতিটি সিনেমা মানুষ দেখুক। আমাদের ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দাঁড়াক এটাই চাওয়া।
