২২ বছর কেন সিনেমা হলে যাননি? অবশেষে কারণ জানালেন কাজী হায়াৎ

দীর্ঘ ২২ বছর পর প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে ঈদের মুক্তিপ্রাপ্ত অনন্ত জলিল ও বর্ষা জুটির ‘দিন: দ্য ডে’ সিনেমাটি দেখেছেন দেশের খ্যাতিমান পরিচালক, চিত্রনাট্যকার ও অভিনেতা কাজী হায়াৎ। সম্প্রতি তিনি লায়ন সিনেমা হলে সিনেমাটি উপভোগ করেছেন।

এদিকে এই খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকে সমালোচনা করে বলছেন, নিজে নির্মাতা হয়ে ২২ বছর প্রেক্ষাগৃহে যাননি, তাহলে সাধারণ মানুষকে কেন প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমা দেখতে বলেন!

তবে কোন অভিমানে নির্মাতা এতদিন সিনেমা হলে যাননি, এ প্রসঙ্গে জানতে যোগাযোগ করা হয় অসংখ্য সুপারহিট সিনেমার নির্মাতা কাজী হায়াতের সঙ্গে।

তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘২২ বছর হলে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি আমার। ২২ বছর আগে বলাকা হলে আমার নির্মিত ‘ইতিহাস’ ছিল সবশেষ সিনেমা দেখা। সেসময় ‘ইতিহাস’ দেখে আমি বলাকার মালিককে বলেছিলাম, ‘আপনাদের বিরুদ্ধে মামলা করা যায়।’

কাজী হায়াৎ বলেন, ‘বলাকা হলের মালিক কারণ জিজ্ঞেস করলে আমি বলেছিলাম, ৩৫ মিলিমিটার এঙ্গেলে সিনেমাটির শুটিং করেছি। আপনারা নিচে থেকে ৩, উপর থেকে ৩, মোট ৬ মাইনাস করে ২৯ মিলিমিটার দেখাচ্ছেন। আমার সিনেমাটি পুরোটা দেখাচ্ছেন না। এ জন্য মামলা করা যায়। শুধু বলাকা নয়, মধুমিতাসহ ঢাকার অধিকাংশ সিনেমা হলে উপরে নিচে অনেক অংশ দেখা যেত না। যার ফলে আমি আর সিনেমা দেখতে যায়নি।’

এত বছর পর তাহলে কেন গেলেন সিনেমা হলে? নির্মাতা বলেন, ‘এখন তো ডিজিটাল হলব্যবস্থা। নানা কারণে ডিজিটালে সিনেমা দেখার সুযোগ হয়নি। তবে ২২ বছর পর লায়ন সিনেমা হলে সিনেমা দেখার পর খেয়াল করলাম, অনেক কিছুর পরিবর্তন হয়েছে। এ জন্য আমি লায়ন সিনেমা হলের মালিককে ধন্যবাদ দিতে চাই। এমন সিনেমা হল যদি থাকে, তবে দর্শক বাড়বে। বাংলা সিনেমা আবার প্রাণ ফিরে পাবে।’

গত শুক্রবার অনন্ত জলিল ও বর্ষা জুটির আমন্ত্রণে লায়ন সিনেমা হলে গিয়ে তাদের অভিনীত ‘দিন- দ্য ডে’ সিনেমাটি দেখেন কাজী হায়াৎ। বেশ প্রশংসাও করেন।

নির্মাতা বলেন, অনেকদিন পর সিনেমা দেখে ভালো লাগল। লায়ন সিনেমা হলের মালিককে ধন্যবাদ- এত সুন্দর একটি প্রেক্ষাগৃহ দর্শকদের উপহার দেওয়ার জন্য। লাভের কথা চিন্তা না করে দর্শকদের জন্য সুন্দর একটি প্রেক্ষাগৃহ তৈরি করেছেন তিনি।

শতকোটি টাকায় নির্মিত সিনেমাটি অহেতুক নয় জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সিনেমাটিতে ১০০ কোটি টাকা সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। কোনো কিছুই অযুক্তিক ব্যবহার হয়নি। এ ধরনের সিনেমা মুক্তি পেলে বাংলা সিনেমার সুদিন ফিরবে। সিনেমা শিল্পের উন্নয়ন হবে। বসে দেখার মতো একটি সিনেমা হয়েছে। সিনেমাটি দেখতে আমি বিরক্তবোধ করিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *