কান-ইতিহাসের পর ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ সিনেমাটি নিয়ে দুনিয়া ঘুরছেন এর প্রধান অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। এরমধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘এশিয়া প্যাসিফিক স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডস’-এ সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ভারতের কেরালা চলচ্চিত্র উৎসবেও পেয়েছেন বিশেষ সম্মান। অংশ নিয়েছেন ৯৪তম অস্কার ছাড়াও বেশ ক’টি আন্তর্জাতিক উৎসবে।
সেই ধারাবাহিকতায় এবার দূর স্পেন থেকে স্বীকৃতি হাতে নিলেন ঢাকার এই অভিনেত্রী। স্পেনের ‘ভ্যালেন্সিয়া আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-সিনেমা জোভ’-এ সেরা অভিনেত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বাঁধন। একা নন, সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কারটিও এসেছে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’-এর পক্ষে।
শনিবার (২ জুলাই) শেষ হয়েছে উৎসবটির এবারের আসর। যাতে সরাসরি অংশ নিয়েছেন বাঁধন। সমাপনী দিনে ঘোষণা করা হয় বিজয়ীদের নাম। ‘রেহানা মরিয়ম’ নিয়ে সেরা হওয়ার এই অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা নিয়ে মুঠোফোনে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ থেকে অনেক দূরের একটি দেশ স্পেনে সেরা অভিনেত্রী পুরস্কার পেলেন কেমন লাগছে?
বাঁধন: ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ সিনেমার জন্য এর আগেও একাধিক পুরস্কার পেয়েছি এবারও পেলাম। শুরুতেই এর জন্য কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই আমার পরিচালক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের কাছে। স্পেনে ‘সিনেমা জোভ-এ আমরা দুটি পুরস্কার পেয়েছি। এটা সত্যিই অনেক বড় সম্মান। সবচেয়ে বেশি ভালো লাগছে বাংলাদেশ থেকে এতো এতে দূরের একটি দেশ তবুও এখানকার মানুষকে রেহানা টাচ করতে পেরেছে।
প্রশ্ন: ওখানে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পাচ্ছেন এটা কি আগেই জানানো হয়েছিলো?
বাঁধন: একেবাইরে না। আমি এর কিছুই জানতাম না। আমার একদিনের জন্য কেবল এই ফেস্টিভ্যালে অবস্থান করার কথা ছিলো। আমি একদিন থাকার প্রস্তুতি নিয়েই বাংলাদেশ থেকে আসি। যেদিন রেহানা মরিয়ম নূর প্রিমিয়ার হবে ওইদিন থেকে পরের দিন চলে যাবো। কিন্তু আমি হোটেলে আসার পর ফেস্টিভ্যালের ডে যে ডিরেক্টার উনার নাম কার্লোস। উনি আমাকে নিজে এসে বলে যান আমরা দুইটা অ্যাওয়ার্ড পাচ্ছি। এই জন্য আমাকে আরও দুদিন থাকা লাগবে।
প্রশ্ন: যখন শুনলেন আপনি সেরা অভিনেত্রী হচ্ছেন তখন কেমন লাগলো?
বাঁধন: আমি মাত্র এসে পৌছেছি। একটা নতুন জায়গা। কোনো মানুষকে এখানে চিনি না। কিন্তু হুট করে খবরটি শোনার পর আমি আসলে বোকা হয়ে গেছিলাম। কি বলবো বুঝতে পারছিলাম না। তবে পরে বিষয়টি ইনজয় করেছি। অ্যাওয়ার্ড শোটাও বেশ মজার ছিলো। বাংলাদেশ এতো দূরের একটা দেশ ওখানকার একটা সিনেমা এখানকার মানুষকে এইভাবে টাচ করছে এটা আমাকে গর্বিত করেছে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের রেহানাকে ওখানে সবাই কিভাবে গ্রহণ করলো?
বাঁধন: আমি ফেস্টিভ্যালের যখনই যেখানে যাচ্ছি সেখানেই মানুষরা আমাকে দেখেই চিৎকার করে বলে উঠছে, ও রেহানা। আমার সঙ্গে হাগ করতে ছুটে আসছে। এই পরিস্থিতিতটা সত্যিই না দেখলে বুঝতে পারবেন না। রেহানা চরিত্রটি তাদের এতোটা কানেক্ট করছে! এটার জন্য অবশ্যই সবচে বড় কৃতিত্ব আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের। আমাদের সিনেমাটি বেস্ট ফিল্ম হয়েছে আমিও বেস্ট অভিনেত্রীর পুরস্কার পেয়েছি। এর পুরো কৃতিত্ব সাদের।
