ঢাকাই সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেত্রী অঞ্জনার জন্মদিন ছিল সোমবার (২৭ জুন)। জন্মদিনের প্রথম প্রহরে স্বামী ও সন্তানের সঙ্গে কেক কেটেছেন। জন্মদিন পালনে বর্ণিল আয়োজন না করে, সেই টাকা কিছু অসচ্ছল শিল্পীদের মাঝে বণ্টন করেছেন।
এক সময় সিনেমার পর্দা কাঁপানো এ নায়িকা দীর্ঘদিন ধরেই লাইমলাইটের বাইরে আছেন। পর্দায় তার উপস্থিতি নেই বললেই চলে। তবে চলচ্চিত্রের বিভিন্ন আয়োজনে সরব উপস্থিতি তার। তবে আবারও সিনেমায় ফেরার অপেক্ষায় আছেন তিনি।
অসংখ্য ব্যবসা সফল সিনেমার নায়িকা অঞ্জনার মনে বেশ আক্ষেপ। বলিউডের গুণী শিল্পীদের নিয়ে এখনও গল্প লেখা হয়, কিন্তু এদেশে (ঢালিউড) সিনিয়র শিল্পীদের নিয়ে ভাবনা নেই বললেই চলে। তাদের সময় এফডিসিতে যে প্রাণচাঞ্চল্য ছিল, এখন সেটি না থাকার আক্ষেপও ঘিরে ধরেছে অঞ্জনাকে।
এ প্রসঙ্গে একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অঞ্জনা জানান, ‘চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা ভালো যাচ্ছে না। চলচ্চিত্রের মধ্যে শৃঙ্খলার অভাব দেখা দিয়েছে। আগে এফডিসিতে পাঁচ-সাতটা করে শুটিং সেট পড়ত। সব সময় জমজমাট থাকত। এখন এফডিসিতে ঢুকলে বুকের মধ্যে হাহাকার করে। কান্না আসে, আমি কাঁদি।’
চলচ্চিত্রের শিল্পীদের মধ্যে পারস্পরিক দ্বন্দ্বের অবসান চান অঞ্জনা। তিনি বলেন, ‘শিল্পীদের মধ্যে দলাদলি থাকা উচিত নয়। বাইরের কেউ এর সমাধান করতে পারবে না, আমাদেরই করতে হবে। সিনিয়ররা একসঙ্গে বসে সবার মধ্যে দূরত্ব কমাতে হবে। আগেও শিল্পীদের মধ্যে ভেদাভেদ ছিল, কিন্তু কখনো এত খারাপ অবস্থা হয়নি। শিল্পীরা সবাই একটা পরিবার। আমরা পরিবার হয়েই থাকতে চাই।’
এসময় আক্ষেপের সুরে বলেন, সিনেমা হলের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ থেকে ৭০-এর ঘরে নেমে এসেছে। অনেক দিন হলো আমাদের চলচ্চিত্রের মধ্যে কিছুটা শৃঙ্খলার অভাব তৈরি হয়েছে। যে কারণে সিনেমা পিছিয়ে গেছে। তবে সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করলে জায়গাটা ঠিক হবে। এখন সে কাজটি করতে হবে। সরকারও চেষ্টা করছে সিনেমাকে ভালো জায়গায় আনতে। তা ছাড়া এখন যেসব ছেলেমেয়ে কাজ করছেন, তাঁরাও বেশ মেধাবী। শুধু তাঁদের মধ্যে আন্তরিকতা দরকার।
