চল্লিশ বছরের বেশি সময় সিনেমায় অভিনয় করছেন চিত্রনায়িকা অঞ্জনা সুলতানা। বিশেষ করে তার নাচ মুগ্ধ করেছে অসংখ্য ভক্তকে। আজ (২৭ জুন) এই অভিনেত্রীর জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীদের শুভেচ্ছায় ভাসছেন তিনি।
গতকাল ২৬ জুন রাত ১২টা এক মিনিটে বাসায় পরিবারের সঙ্গে কেক কাটেন। তবে দিনটিতে তেমন কোনো আয়োজন রাখেননি। জন্মদিন পালনের জন্য যে টাকা রেখেছিলেন, সেটি চলচ্চিত্রের কিছু অসচ্ছল শিল্পীদের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অঞ্জনা জানান, ‘বন্যার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের কষ্ট অনুভব করে এবারের জন্মদিনে কোনো আয়োজন রাখিনি। জন্মদিন পালনের জন্য রাখা বাজেট চলচ্চিত্রের কিছু অসচ্ছল শিল্পী ভাইবোনদের মাঝে ভাগ করে দিয়েছি।’
স্বামীর কাছ থেকে পাওয়া উপহার প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘তিনি (স্বামী) আমাকে একটি স্বর্ণের হার উপহার দিয়েছেন। এটিই আমার জন্মদিনের সেরা উপহার।’
অঞ্জনার কাছে বয়স কেবল সংখ্যা মাত্র। অভিনয়ে সরব না থাকলেও চলচ্চিত্রের নানা অনুষ্ঠানে নিয়মিত দেখা যায় তাকে। তরুণ শিল্পীদের কাছেও অঞ্জনা জনপ্রিয় নাম। এ প্রজন্মের শিল্পীদের ভালো কাজের ব্যাপারে উৎসাহিত করেন এই অভিনেত্রী।
অঞ্জনা সুলতানা অভিনয় ক্যারিয়ারে ৩৫০টির বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কাপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রী বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে কার্যকরী পরিষদের সদস্যের দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিনয়, নৃত্য ও মডেলিং তিনটিতেই অঞ্জনা সফলতার সঙ্গে কাজ করেছেন। তার অভিনীত প্রথম সিনেমা বাবুল চৌধুরী পরিচালিত ‘সেতু’। কিন্তু দর্শকের সামনে তিনি প্রথম আসেন মাসুদ পারভেজের ‘দস্যু বনহূর’ সিনেমার মাধ্যমে। নায়করাজ রাজ্জাকের সঙ্গে সর্বাধিক ৩০টি সিনেমার নায়িকাও অঞ্জনা।
এর মধ্যে ‘অশিক্ষিত’, ‘রজনীগন্ধা’, ‘আশার আলো’, ‘জিঞ্জির’, ‘আনারকলি’, ‘বৌরানী’, ‘সোনার হরিণ’, ‘মানা’, ‘রাম রহিম জন’, ‘সানাই’, ‘মাটির পুতুল’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’ ও ‘অভিযান’ উল্লেখযোগ্য। ‘পরিণীতা’, ‘গাংচিল’ সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান অঞ্জনা। এ ছাড়াও দুইবার বাচসাস, দুইবার নৃত্যে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া ১৯৯৮ সালে ভারতীয় উপমহাদেশে নৃত্যে প্রথম হয়ে জিতে নেন হলিউড অ্যাওয়ার্ড।
