কথা ছিল রোববার ভোর ৬টায় খুলে যাবে গেট। তবে অপেক্ষমাণ হাজারও গাড়ির ক্লান্তি ঘোচাতে ১০ মিনিট আগেই খুলে দেয়া হয় মাওয়া প্রান্ত থেকে পদ্মা সেতু পাড়ি দেয়ার টোল প্লাজা।
আর তখনই প্রথম যাত্রীবাহী পরিবহন হিসেবে পদ্মা সেতু পাড়ি দেয় এনা পরিবহন। এটির গন্তব্য ছিল ফরিদপুরের ভাঙা। বাস প্রেমীদের সংগঠন বিডি বাস লাভার-এর সদস্যরা পদ্মা সেতু পাড়ি দিতেই আয়োজন করে এ স্বপ্নযাত্রার।
শুরুটা হয়েছিল তার আগের রাতে। সংকল্প ছিল যেকোনো মূল্যের সবার আগে পাড়ি দিতে হবে সেতু। তাই রাত ১২টার আগেই শাহবাগ থেকে শুরু হয়েছিল যাত্রা। বাসটি সেতুর সংযোগ সড়কে এসে পৌঁছায় রাত পৌনে ১টায়। শুরু হয় অপেক্ষার পালা। কখন হবে ভোর, কখন খুলবে গেট, যেন তর সইছিল না তাদের।
রোববার (২৬ জুন) সকালে মাদারীপুরের মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর টোল প্লাজা গিয়ে এমন চিত্রই দেখা যায়।
বাসচালক মো. সৈকত বলেন, প্রথমবার পদ্মা সেতুতে গাড়ি নিয়ে যাচ্ছি এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। ফেরির জন্য আগে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতাম। কয়েক ঘণ্টা লাগতো ওপারে যাইতে। আজ মাত্র কয়েক মিনিটেই চলে যাবো। পুরা ঈদ ঈদ লাগছে।
ট্রাকচালক মোহাম্মদ আব্বাস আলী বলেন, খুব ভালো লাগছে। প্রথম দিনেই ট্রাক নিয়ে পদ্মা সেতুতে উঠতে পেরেছি।
যাত্রীরা প্রথমবার বাসে উঠে পদ্মা সেতু পার হওয়ার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। বাসে থাকা এক যাত্রী বলেন, স্বপ্নের পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে যাচ্ছি। সাধারণ মানুষের জন্য প্রথম দিনেই আমি পাড়ি দিতে পারছি এইটা ইতিহাস হয়ে থাকবে আমার জীবনে।
পরিবার নিয়ে ওপারে যাচ্ছেন অনেকে। প্রাইভেটকারের এক যাত্রী বলেন, পরিবার নিয়ে প্রথম দিনেই পদ্মা পাড়ি দিচ্ছি। এটা আমাদের জন্য একটা ভালোলাগার দিন। কত দুর্ভোগ নিয়ে পদ্মাপাড়ি দিয়েছি তা বলে শেষ করা যাবে না।
প্রথমবার পদ্মাপাড়ি দেওয়া এক শিশু জানায়, বাবা-মায়ের সঙ্গে প্রথম পদ্মা সেতু পাড়ি দিচ্ছি। খুব ভালো লাগছে।
