পেশায় অভিনয়শিল্পী। এর বাইরেও আলাদা একটা গুণ আছে আশনা হাবিব ভাবনার। অভিনয়ের ফাঁকে ফাঁকে ক্যানভাসে নানা ধরনের ছবি আঁকেন তিনি। নিজের আঁকা ছবি নিয়ে নতুন পরিকল্পনা করেছেন এ অভিনেত্রী। নিজের আঁকা ছবি বিক্রি করে বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াবেন ভাবনা।
করোনাকালের কথা, শুটিং বন্ধ। ঘরে বসে সময় কাটছে। এমন সময়ে ছবি আঁকার নেশা চাপল মাথায়। সেই সময় বেশ অনেকগুলো ছবি এঁকে ফেসবুকে শেয়ার করে প্রশংসিত হন ভাবনা। কিছু ছবি বিক্রিও হয়েছিল তখন। সেই অর্থ দিয়ে করোনায় আক্রান্ত কিছু মানুষের সাহায্য করেছেন ভাবনা। এরপর সিদ্ধান্ত নিলেন নিজের আঁকা ছবি দিয়ে একটি প্রদর্শনী করবেন। ২০টির মতো ছবি চূড়ান্ত করেছিলেন।
সপ্তাহখানেক আগে হঠাৎ খবর এল পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে সিলেট-সুনামগঞ্জের বিভিন্ন অঞ্চল তলিয়ে গেছে। লাখ লাখ মানুষ সহায়–সম্বল হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন। যে যেভাবে পারছেন বন্যাদুর্গত এলাকায় মানুষের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন।
অসহায় মানুষের আর্তনাদ নাড়া দিয়েছে অভিনেত্রী ভাবনাকেও। সহায়–সম্বল হারানো মানুষের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এসেছেন তিনি। সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রদর্শনী বাদ, তাঁর আঁকা ছবি বিক্রি থেকে যে টাকা আসবে, তার পুরোটাই বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের জন্য ব্যয় করা হবে।
ভাবনা বললেন, তার আঁকা যে ২০টি ছবি বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন তার প্রতিটির দাম ধরা হয়েছে ১৫ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে দুটি ছবি বিক্রি হয়েছে। এ সপ্তাহের মধ্যেই সব ছবি বিক্রি হয়ে যাবে বলে তার বিশ্বাস।
গতকাল রাতে ভাবনা ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে জানান, ‘আমার প্রথম প্রদর্শনীর জন্য একটি সিরিজ তৈরির কাজে দিনরাত পরিশ্রম করেছি। কিন্তু আমাদের দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিশেষ করে সিলেটের অবস্থা দেখে আমার শিল্পকর্ম বিক্রি করার পরিকল্পনা করেছি। এর থেকে যে অর্থ পাব তা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের দেওয়া হবে।’
তবে ভাবনা যে শুধু ছবি বিক্রি করেই বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন তা নয়। ইতোমধ্যে নগদ অর্থও দিয়েও তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ভাবনা বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে সহায়তা করেছি এবং এখনো যতটা সম্ভব করার চেষ্টা করছি। কিন্তু এই মুহূর্তে এটি যথেষ্ট বলে মনে হচ্ছে না। সবার কাছে আমার আন্তরিক অনুরোধ, আসুন আমরা সবাই এগিয়ে আসি এবং আমাদের দেশকে, আমাদের মানুষকে সাহায্য করি।’
ভাবনা তার আঁকা কিছু শিল্প কর্মের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। কারো পছন্দ হলে বিস্তারিত বলতে তার ফেসবুকের ইনবক্সে মেসেজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
