মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমার নেশা হয়ে গেছে: তাশরীফ

বন্যায় যখন সিলেটের জনজীবন বিপর্যস্ত, ঠিক সেই মুহূর্তে দুর্গত মানুষের জন্য অর্থ সংগ্রহ ও বন্যা পরিস্থিতির খবর জানাতে ফেসবুক লাইভে এসে ভাইরাল হয়েছেন তরুণ গায়ক তাশরীফ খান। তাঁর একটি লাইভ সাড়ে তিন লাখের বেশি শেয়ার হয়েছে।

বন্যাদুর্গত মানুষদের সাহায্য করতে দুটি ফেসবুক লাইভে আহ্বান জানিয়ে এ পর্যন্ত ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা তুলেছেন তিনি। গত ১৩ জুন থেকে সিলেটে থেকে বানভাসি মানুষদের সহায়তা করে যাচ্ছেন ‘কুড়েঘর’ ব্যান্ডের এই গায়ক।

তার এই উদ্যোগ দেশব্যাপী কুড়িয়েছে প্রশংসা। সিলেটে বসেই সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

কেমন আছেন?

অনেকটা ধকল যাচ্ছে। খুব বেশি ভালো নেই। বুঝতেই পারছেন গলা বসে গেছে। গলায় কিছুটা ব্যথাও রয়েছে। সবকিছুর পরও মানুষের জন্য কিছু করতে পারছি, এটা ভালো লাগার মুহূর্ত।

আপনাকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না, এখন কোথায় আছেন?

কয়েক দিন ধরে এমন সব জায়গায় ত্রাণসহায়তা পৌঁছাচ্ছি, যেখানে কোনো নেটওয়ার্ক তো দূরে থাক, বেঁচে থাকাই কঠিন। যে কারণে মেক্সিমাম সময় নেটওয়ার্কের বাইরে ছিলাম। এখনো সিলেটেই আছি। আমাদের টিমের কার্যক্রম চলছে।

আপনি সিলেট গিয়েছেন কবে?

২০–২৫ দিন আগে সিলেটে প্রথম বন্যা হয়। তখন আমরা কথা দিয়েছিলাম সিলেটের মানুষের পাশে থাকব। সেই সময় আমাদের সিঙ্গাপুরে একটি শো ছিল। আমরা চেয়েছিলাম শো থেকে পাওয়া আয় নিয়ে সিলেট যাব। তখন পানি নেমে যাবে। মানুষের দুর্ভোগটা আরও বাড়বে। শো শেষে ১৩ জুন দেশে ফিরে ১৪ তারিখে সিলেট আসি কথা রক্ষার জন্য। আমরা এক লাখ টাকা নিয়ে আসি। সেদিন থেকেই কাকতালীয়ভাবে সিলেটে পানি ও বৃষ্টি বাড়তে শুরু করে। তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিই, পরিস্থিতি ভালো না, এক লাখ টাকায় হবে না। তখন আবার ফান্ড সংগ্রহ শুরু করি।

সিলেটের অনেক দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন। কোনো সমস্যায় পড়েছেন?

আসলে অসহায় মানুষের কাছে পৌঁছানোর দিকে আমরা এতটাই মনযোগী ছিলাম নিজেদের কথা মাথায় আসেনি। যদি প্রত্যন্ত এলাকায় ঢুকতে না পারি, তাহলে দেশের অনেক মানুষ বন্যার প্রকৃত অবস্থা জানতে পারবে না। ঝুঁকি নিয়ে এমন সব এলাকায় গিয়েছি, যেখানে টিনের চালে চালে মানুষ। চোখের সামনে দেখছি মানুষ, পশু, ঘরবাড়ি স্রোতে ভেসে যাচ্ছে। এমনও হয়েছে, নৌকার অভাবে ত্রাণ নিয়ে ফিরে আসতে হয়েছে। পরে সেনাবাহিনী আমাদের অনেক সহায়তা করেছে।

মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শুরুটা কবে থেকে?

ছোটবেলা থেকে ইচ্ছা ছিল সামর্থ্য হলে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ইচ্ছা পূরণ করব। পরে যখন গান শুরু করি, তখন কিছুটা অর্থ হাতে আসতে থাকে। মানুষের ইচ্ছা পূরণ করতে করতেই করোনা দেখা দেয়, তখন একটু বড় পরিসরে মানুষের পাশে দাঁড়াই। বন্ধু ও পরিচিতজনের চোখের অপারেশন, কারও মায়ের অসুস্থ হলে পাশে দাঁড়াই। একসময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমার নেশা হয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *