বর্ষীয়ান অভিনেত্রী দিলারা জামান। নিজের দুই কন্যার শুধু মা নন তিনি, অভিনয়শিল্পীদেরও মা হয়ে উঠেছেন তিনি অভিনয় করতে গিয়ে। অভিনয় শিল্পীরাও দিলারা জামান কে মা ডাকতে পছন্দ করেন।
গতকাল ছিল এই গুণী অভিনেত্রীর ৮০ তম জন্মদিন। অভিনয়ে পার করেছেন ৫৭ বছর। ১৯৬৫ সালে আলাউদ্দিন আল আজাদের রচনায় ও মোহাম্মদ জাকারিয়ার পরিচালনায় ত্রিধারা দিয়ে শুরু হয় তাঁর অভিনয়জীবন। এই বয়সেও শুটিংয়ের জন্য এখানে–সেখানে ছোটেন।
কেমন আছেন এই অভিনেত্রী? উত্তরে দিলারা বলেন, আপনাদের সবার ভালবাসায় ভালো আছি, সুস্থ আছি। এই বয়সে এসেও তরুণ প্রজন্মের শিল্পীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অভিনয় করে চলেছি। তার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ পরিচালক-সহশিল্পী সবার প্রতি। তারা যে আমাকে অভিনয়ের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছেন, এ ঋণ এক জনমে শোধ করার শক্তি রাখি না।
৫৭ বছরের অভিনয়জীবনে স্বপ্নের চরিত্রের দেখা পেয়েছেন? এই অভিনেত্রী বলেন, এখনো অধরাই রয়ে গেছে স্বপ্নের চরিত্র। তবে এখনো স্বপ্ন দেখি, এমন একটা চরিত্রে অভিনয় যেন করতে পারি, যা সব মানুষের মনে দাগ কেটে যায়। কবে সেই ধরনের চরিত্রের দেখা পাব, কে জানে। পরিচালকেরাও হয়তো আমাকে নিয়ে ভাবেননি, তা না হলে এত দিনে তো হয়েই যেত।
এ সময়ে এসে অভিনেত্রী হিসেবে উপলব্ধি কি? দিলারা জামান বলেন, অভিনয়ের পথে একবার এলে এখান থেকে বের হবার পথ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। আমিও অভিনয়ের অসীম পথে পথিক হয়ে থাকতে চাই। যদিও বার্ধক্য মাঝে মাঝে আমাকে জানান দেয় যে বয়স হয়েছে। পায়ের হাঁটুতে ব্যথা হয় অনেক সময়। একাকী জীবন মাঝে মাঝে আমাকে ভাবায়। দুশ্চিন্তায় ফেলে দেয়। আমার সন্তান-নাতিরা সবাই বিদেশে থাকে। মাঝে মাঝে তারা যখন দেশে বেড়াতে আসে তখন শারীরিক ব্যাধি যেন এক নিমেষে উধাও হয়ে যায়।
৮০ তম জন্মদিন কেমন কাটলো? এই গুণী অভিনেত্রী বলেন, এই বয়সে আর জন্মদিন। জন্মদিনের প্রথম সারপ্রাইজ আমার মেয়ে দিয়েছে আমাকে। আমার জন্মদিন পালন করতে কানাডা থেকে দেশে চলে এসেছে সে। তাছাড়া সারাদিনই আমার সহশিল্পীরা, ভক্তরা ফোনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এর বাইরে চ্যানেল আই তারকা কথন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি। সত্যি বলতে এই মুহূর্তে সিলেটের বানভাসি মানুষের কষ্ট দেখে জন্মদিনের আনন্দ মন থেকে উধাও হয়ে গেছে। সৃষ্টিকর্তার কাছে শুধু এটুকুই প্রার্থনা এসব মানুষের কষ্ট যেন দূর হয়ে যায়।
এমন কিছু করতে চেয়েছিলেন, যা নিয়ে জন্মদিনে আফসোস হয়? দিলারা জামান বলেন, বৃদ্ধাশ্রম করার একটা পরিকল্পনা অনেক দিনের ছিল, যার মাধ্যমে অনেক মানুষের উপকার হবে, আশ্রয় হবে, ঠাঁই হবে। আমার একার পক্ষে তো সম্ভব নয়। এখন সেই আশা বাদ দিয়েছি। তবে আমি বেশ কয়েকটি বৃদ্ধাশ্রমের সঙ্গে যুক্ত। তাদের যেকোনো আয়োজনে যাই। সময় কাটাই।
