ঢাকা: সুনামগঞ্জে বন্যায় আটকে পড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। রোববার সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছেন আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
এতে বলা হয়েছে, ‘সুনামগঞ্জে আটকে পড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ জন শিক্ষার্থীসহ অন্যান্যদের সেনাবাহিনীর সহায়তায় ছাতক হতে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের সিলেটে আনা হচ্ছে।’
এদিকে বন্যা মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর কার্যক্রম পরিদর্শনে সিলেট যাচ্ছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।
গত ১৪ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২১ শিক্ষার্থী টাঙ্গুয়ার হাওড়ে ভ্রমণে যান। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়। পরে শহরের ‘পানসী’ রেস্তোরাঁয় তারা আশ্রয় নেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন ছাত্রীও রয়েছেন।
পরে আটকেপড়া শিক্ষার্থীরা সংবাদ মাধ্যমের কাছে উদ্ধারের জন্য সাহায্য চান। তারা সংবাদ মাধ্যমের কাছে উদ্ধারের আর্জি জানিয়ে বলেন, তারা সেখানে খাবার ও সুপেয় পানির সংকটে আছেন। শৌচাগারের ব্যবস্থাও নেই। মোবাইল নেটওয়ার্ক ঠিকমতো কাজ করছে না। সব মিলিয়ে তারা খুব দুরবস্থার মধ্যে আছেন।
পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক একেএম গোলাম রব্বানী এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল মনসুর আহাম্মদ স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের উদ্ধার ও প্রয়োজনীয় খাবার সরবরাহের অনুরোধ জানান।
পরে সেখান থেকে জেলা প্রশাসক গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে পুলিশ লাইনসে নিয়ে যান। এরপর গতকাল শনিবার দুপুরে পুলিশের ব্যবস্থাপনায় একটি লঞ্চে করে এই ২১ শিক্ষার্থীসহ আরও প্রায় ১০০ জনকে সিলেটের উদ্দেশে পাঠানো হয়। তবে লঞ্চটি সন্ধ্যার দিকে দোয়ারাবাজার উপজেলা সদরের কাছে একটি ডুবোচরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে তা আটকে যায়। সেখান প্রায় ছয় ঘণ্টা আটকে থাকে।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের জানানো হয়, তুমুল বৃষ্টি, নদীতে প্রবল স্রোত ও অন্ধকারের কারণে সেনাবাহিনীর একটি দল উদ্ধার করতে গিয়েও ফিরে আসতে বাধ্য হয়।
এমন পরিস্থিতিতে রাত দুইটার দিকে ডুবোচর থেকে লঞ্চটিকে দোয়ারাবাজারের দিকে নিয়ে যান চালক। তবে সেখানে নোঙর করার মতো পরিস্থিতি না থাকায় লঞ্চটিকে দুই ঘণ্টা পর ছাতকে আনা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেনাবাহিনীর পরামর্শে সেখানে নেমে যান। লঞ্চটি অন্যদের নিয়ে সিলেটের দিকে চলে যায়।
আজ সকাল সাতটার দিকে সেনাবাহিনীর একটি দল তিনটি বোটে করে তাদের উদ্ধার করে ছাতক শহরে নিয়ে আসে।
আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী শোয়াইব আহমেদ তাঁর ফেসবুকে স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আমরা নিরাপদে আছি, সুস্থ আছি। বাংলাদেশ আর্মির সহায়তায় আমরা সিলেটে গাড়ি যোগে পৌঁছাচ্ছি।’
