হতাশ হয়ে চলচ্চিত্র ছাড়ার ঘোষণা দিলেন ডিপজল

চলচ্চিত্রের মুভিলর্ড খ্যাত মনোয়ার হোসেন ডিপজল। সম্প্রতি কোটি টাকার কাবিনে ছেলে সৌমিকের বিয়ে দিলেন। ধুমধামে জন্মদিন পালন করলেন মেয়ে ওলিজার। মেয়েকে দিলেন ২ কেজি ওজনের সোনার ব্রেসলেট। সময়টা বেশ ফুরফুরে থাকার কথা তার।

কিন্তু বেজায় মনক্ষুণ্ন এ প্রযোজক ও অভিনেতা। এতোটই ভেঙে পড়েছেন যে, চলচ্চিত্রকেই বিদায় জানাতে চাইছেন। তার এমন সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ সম্প্রতি চলমান জায়েদ-ওমর সানী দ্বন্দ্ব, যার শুরু তার ছেলের বিয়ে পরবর্তী অনুষ্ঠান থেকেই।

গত ১০ জুনের সেই অনুষ্ঠানে জায়েদকে কষে চড় মারেন সানী। মেজাজ হারিয়ে জায়েদও পি’স্তল বের করে হ’ত্যার হু’মকি দেন বলে দাবি সানীর। এরপর এ নিয়ে প্রতি মুহূর্তেই জল ঘোলা হচ্ছে।

ডিপজলের ভাষ্য, এসব আর মেনে নিতে পারছেন না তিনি। শিল্পী সমিতির গত নির্বাচন থেকেই চলচ্চিত্র অঙ্গনে নোংরামি ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে বেশ মর্মাহত হয়ে হাল ছেড়ে দিয়েছেন।

এক বুক হতাশা নিয়ে গণমাধ্যমকে ডিপজল বললেন, ‘শিল্পীদের আর ভাবমূর্তি বলে কিছু নাই-ই। ওই এক নির্বাচনে ধ্বংস হয়ে গেছে ৯৯ ভাগ। এক শতাংশ বাকি ছিল, সেটাও শেষ হয়ে যাচ্ছে। এসব নিয়ে আর কিছু বলার নেই। আমার আর দুই-তিনটা ছবির গল্প আছে। ছবিগুলো শেষ করার পর চলচ্চিত্রকে বিদায় জানাব ভাবছি।’

দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ‘চাচ্চু’খ্যাত অভিনেতা বলেন, ‘ভেবেছিলাম মরার আগের দিন পর্যন্ত সিনেমা বানিয়ে যাব, ফিল্মের পাশে থাকব, অভিনয় করে যাব, তা আর মনে হয় হচ্ছে না। আর বড়জোর তিনটা ছবি করতে পারি, এরপরে সিনেমাকে গুডবাই। কারণ, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে এত নোংরামি কোনো দিন দেখিওনি আর দেখার ইচ্ছাও নাই।’

একরকম হাল ছেড়ে দিয়ে খল চরিত্রে জনপ্রিয়তা পাওয়া এ অভিনেতা বলেন, ‘শিল্পী সমিতিতে কে চেয়ারে বসবে, কে ক্ষমতা দেখাবে, এই নিয়ে মারামারি হয়। কিন্তু সিনেমা কেউ বানানোর ঘোষণা দিচ্ছে না।এখন এফডিসিতে মার্কেট করেছে। পুরো জায়গাটাতেই মার্কেট বানিয়ে দিক। ফিল্ম বন্ধ হয়ে যাক। শিল্পীরা অন্য লাইনে চলে যাক।’

এই সময় দুঃখ প্রকাশ করে ডিপজল বলেন, ‘ইচ্ছা ছিল মরণের আগপর্যন্ত ছবি নিয়ে থাকব। অভিনয় করে যাব, দর্শকের হাসিখুশি দেখব। সেটা মনে হচ্ছে আর হলো না। আমারও ইচ্ছা ওঠে গেছে, মনমানসিকতাও নেই, নিজেও অসুস্থ, ভেবেছিলাম ফিল্মের চাকা ঘোরাব। কিন্তু এত নোংরামি ঢুকছে, যা অকল্পনীয়। ইন্ডাস্ট্রি শেষ হয়ে গেছে। ফেরানোর পথ নেই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *