অভিনয়শিল্পীদের ক্যারিয়ারের ওঠানামা নতুন কিছু নয়। দুর্দান্ত শুরুর পর অনেকেই প্রত্যাশামতো এগিয়ে যেতে পারেন না। কেউ হারিয়ে যান, কেউ ফিরে আসেন প্রবল বিক্রমে।
তবে একবার পিছিয়ে যাওয়ার পার আবার ফিরে এসে চমকে দেওয়া—বাংলাদেশে এমন উদাহরণ কম। তবে গত কয়েক বছরে ‘বাতিল’-এর খাতা থেকে ফিরে এসে মুগ্ধ করেছেন কয়েকজন অভিনয়শিল্পী। যাঁদের মধ্যে প্রথমেই বলা যায় আজমেরী হক বাঁধনের কথা।
অভিনয়ের শুরু ২০০৬ সালে। নিজের অভিনয় নিয়ে একটা সময় হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। ওজন ঝরিয়েও বাদ পড়েছিলেন জাজ মাল্টিমিডিয়ার সিনেমা থেকে। বেশ কয়েকটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, কয়েক বছর আগেই নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে সংশয়ে ভুগছিলেন।
সেই বাঁধন রেহানা রূপে হাজির হতেই বদলে গেল দৃশ্যপট। ২০২১ সালে ৭৪তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশ থেকে প্রথমবার মনোনয়ন পায় ‘রেহানা মরিয়ম নূর’। আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের এই ছবির পর বলা যায় রাতারাতি তারকাখ্যাতি পেয়ে যান।
রেহানা সূত্রে পাওয়া এই খ্যাতিকে নির্দ্বিধায় ‘দ্বিতীয় জীবন’ বলে স্বীকার করেন অভিনেত্রী নিজেও। তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে অনেক অন্যায়–অবিচার হয়েছে; যা আমি জেনেও না জানার ভান করছিলাম। এটা আমাকে দেখতে সাহায্য করেছে রেহানা। এটা আমি নিশ্চিত করতে চাই। রেহানা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। রেহানা অবশ্যই আমাকে দ্বিতীয় জীবন দিয়েছে। কানে যাওয়াটা আমার জন্য অনেক গর্বের।’
এই প্রজেক্টের পর বাঁধন অভিনয় করেছেন প্রখ্যাত বলিউড পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজের ছবিতে। বিস্ময় হলেও সত্য, রেহানার জন্য এবারের মেরিল-প্রথম পুরস্কারে সেরা অভিনেত্রীর (সমালোচক) পুরস্কার তাঁর জন্য বাংলাদেশে পাওয়া প্রথম কোনো স্বীকৃতি।
পুরস্কার পাওয়ার পর তাই আবেগপ্রবণ বাঁধন বলেন, ‘২০০৬ সাল থেকে অভিনয় করছি। এত দিনে দেশে স্বীকৃতি পেলাম। একটা সময় ছিল যখন মানুষ বলত আমি অভিনয় করতে পারি না।’
