গেল বছরের মার্চ মাসে নায়িকা হিসেবে দীঘির অভিষেক হয়েছিলো দেলোয়ার জাহান ঝন্টু পরিচালিত ‘তুমি আছো তুমি নাই’ সিনেমাতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে। সেদিনই হলে হলে দর্শক মুক্তিপ্রাপ্ত এই সিনেমাতে ছোট্টবেলার দীঘিকে নায়িকা হিসেবে প্রথম দেখেন।
সেবছর মার্চ মাসেই দীঘি প্রথমবার কোন ওয়েব ফিল্মে কাজ করেন। সুমন ধরের পরিচালনায় ‘শেষ চিঠি’ নামের ওয়েব ফিল্মে কাজ করেন। এক বছরেরও বেশি সময় পর অবশেষে ওটিটি প্লাটফরমে দীঘি অভিনীত প্রথম ওয়েব ফিল্ম রিলিজ হয়েছে। এখানে দীঘি অভিনয় করেছেন তুলি চরিত্রে। ওয়েব ফিল্মটি প্রকাশের পরই অভিনয় প্রশংসায় ভাসছেন দীঘি।
জানতে চাইলে দীঘি বলেন, সত্যি কথা বলতে, শুরুতে আমি অনেক নার্ভাস ছিলাম। ‘তুলি’ চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলা অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। এখনও শুরুর দিকের শটগুলো দেখে মনে হয়, আরও ভালো করতে পারতাম। তবে, আলহামদুলিল্লাহ কাজটি সবার ভালো লেগেছে, এটাই সার্থকতা। এ ক্যারেক্টারটি ফুটিয়ে তুলতে সুমন, রাজু রাজ, ইয়াসসহ সবাই আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন। তাদের সহায়তা ছাড়া আমি কোনোভাবেই কাজটি করতে পারতাম না।
তিনি বলেন, ইন্ডাস্ট্রিতে এত গল্পের মধ্যে আমাদের সাধারণ একটা গল্প মানুষকে এভাবে নাড়া দেবে ভাবিনি। এ গল্পটার সঙ্গে যে মানুষ নিজেকে রিলেট করতে পারছে, সবাই দেখছে ‘শেষ চিঠি’, এখানেই আমার স্বার্থকতা। প্রতিদিন যেভাবে মানুষের রেসপন্স পাচ্ছি, তা সত্যিই অপ্রত্যাশিত ছিল আমার কাছে। তবে এখানেই শেষ না। আরও অনেক দূর যেতে হবে, ভবিষ্যতে আরও অনেক কিছু করা বাকি।
‘শেষ চিঠি’র স্মরণীয় স্মৃতিও জানালেন দীঘি। বলেন, ‘শেষ চিঠি’র শেষ দৃশ্যেটি অনেক ইমোশনাল। ছেলেটি এবং মেয়েটি মারা যায়। সেদিন আমরা সারারাত শুটিং করেছি। ওই সময়টাতে আমার অন্য একটি কাজের ট্রেলার রিলিজ পায়, যেটি নিয়ে আমি একটু চিন্তিত ছিলাম। এছাড়াও সেদিন পার্সোনাল কিছু কারণে আমার মন খারাপ ছিল, কান্নাকাটি করেছিলাম খুব। তবে এই মানসিক অবস্থাটা দরকার ছিল ‘শেষ চিঠি’র শেষদিকের ইমোশনাল শটের জন্য। সারারাত শুটিং করে অবশেষে সকালে নরমাল হয়েছি, এরপর আমরা সবাই একসাথে নাস্তা করি। সব মিলিয়ে ওই দিনটা খুব স্মরণীয় আমার কাছে।
তবে তথাকথিত নায়িকা নয় একজন পূর্ণাঙ্গ অভিনেত্রী হতে চান দীঘি। তিনি বলেন, অভিনেত্রীর চেয়ে নায়িকা হওয়া সহজ। নায়িকা তো হয়েই গেছি। মানুষের কাছে নায়িকা তকমা পেয়ে গেছি। তবে নায়িকা নয়, অভিনেত্রী হতে চাই। কিন্তু অভিনেত্রী তকমা লাগতে অনেক সময় লাগে। হয়তো বা ১০ বছরও লাগতে পারে। কিন্তু আমি অপেক্ষা করবো। আমি আগে অভিনেত্রী হতে চাই।
