Home আন্তর্জাতিক প্যারিস ছাড়ছে হাজার হাজার মানুষ; রাস্তায় ৭০০ কি.মি. যানজট

প্যারিস ছাড়ছে হাজার হাজার মানুষ; রাস্তায় ৭০০ কি.মি. যানজট

0
102

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- যানজটের নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ঢাকার রাস্তাঘাটের চিত্র। এক ঘণ্টার পথ যে কয়েক ঘণ্টা থেকে পুরো দিনও লেগে যেতে পারে। তবে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে যে যানজট দেখা দিয়েছিল তা নজিরবিহীন।

 

বিবিসি জানিয়েছে, ‘এদিন প্যারিসের রাস্তায় দেখা দিয়েছিল ৪৩০ মাইল (৭০০ কিলোমিটার) দীর্ঘ যানজট।’ করোনাভাইরাস মহামারি রুখতে হঠাৎ করে ফের লকডাউনের ঘোষণা দেয় ফরাসি সরকার। তার জেরেই মূলত এই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

 

করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলির মতো ফ্রান্সেও শুক্রবার মধ্যরাত থেকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। তার আগের দিন ব্যস্ততা বাড়ার সম্ভাবনা ছিলই। কিন্তু পরিস্থিতি চলে যায় হাতের বাইরে।

 

এদিন রাজধানী প্যারিস ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যায় বহু বাসিন্দা। এছাড়া অনেকেই বেরিয়েছিলেন খাবার মজুত করতে। তাই নিত্যসামগ্রীর দোকানে ভিড় ছিল প্রবল. এতে সৃষ্টি হয় লম্বা জ্যাম।

 

একসঙ্গে এত মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে পড়ায় তালগোল পাকিয়ে যায় যান চলাচল ব্যবস্থা। ফলে সৃষ্টি হয় নজিরবিহীন দৃশ্যের। মাইলের পর মাইল কার্যত থমকে যায় সব গাড়ি। সামান্য দূরত্ব এগোতেও কেটে যেতে থাকে দীর্ঘ সময়। তবে গোটা বিশ্বের কাছে এটা বিস্ময়কর হলেও ফরাসিদের কাছে এমন ব্যাপার নতুন নয়। এর আগে গত ডিসেম্বরে অকস্মাৎ যান ধর্মঘটের ফলেও দেখা গিয়েছিল এক দীর্ঘ যানজট। সেটা ছিল ৬২৯ কিমি দীর্ঘ। এবারের যানজট অবশ্য সেই রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছে।

 

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় সংক্রমণ লাফিয়ে বাড়তে শুরু করেছে ফ্রান্সে। করোনা সংক্রমণের বিচারে বিশ্বে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে দেশটি। শনিবার দেশটিতে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ। একই সময় নতুন করে মৃত্যু হয়েছে ২২৩ জনের। এ নিয়ে দেশটিতে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ লাখ ৬৭ হাজারে বেশি এবং মৃত্যু হয়েছে ৩৬ হাজার ৭৮৮ জনের।

 

আগামী ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে লকডাউন থাকবে। আপাতত লক্ষ্য দৈনিক সংক্রমণ ৫ হাজারের নীচে নিয়ে যাওয়া। তবে এবারের লকডাউনে ছোটখাটো ছাড় দেওয়া হয়েছে। খুব প্রয়োজন না হলে বাড়ি থেকে বেরনো যাবে না। কিন্তু বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরত্ব পর্যন্ত প্রাতঃভ্রমণ করার অনুমতি রয়েছে। যাওয়া যাবে অফিসে। খোলা থাকবে অত্যাবশকীয় পণ্যের দোকানও। বন্ধ থাকবে রেস্তোঁরা ও ক্যাফে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here