এ প্রজন্মের জনপ্রিয় তারকা অভিনয়শিল্পী জোভান আহমেদ। সম্প্রতি তিনি ফেসবুকে লিখেছেন ‘৫০ বছর বয়সে ৫০ লাখ টাকা দিয়ে কি হবে, যদি না ২৯ বছর বয়সে বগা লেকে গিয়ে একবার ডুব না দিতে পারি?’।
আসলে জোভান জীবনের মূল্যমান সময়গুলো নিজের মতো করে কাটাতে পছন্দ করেন। যে কারণে ঘোরাঘুরি তাঁর অন্যতম শখ। শত ব্যস্ততার মধ্যেও নিজেকে সময় দিতে ছুটে যান পাহাড়–পর্বতে। দেখা পান অন্য এক জীবনের। কেন ঘোরাঘুরি করেন জানালেন জোভান।
ঈদের বিরতিতে এবার গিয়েছিলেন পার্বত্য অঞ্চলে। বন্ধুদের নিয়ে কিছু দিন কাটিয়ে এসেছেন। উদ্দেশ্য ছিল সময়গুলো নিজের মতো করেই থাকবেন।
এই অভিনেতা বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, এই বয়সটায় নিজেকে একটু সময় দেওয়া উচিত। কারণ, যত সময় সুস্থ আছি, তরুণ আছি, তত সময় কিছুটা ঘুরলে জীবনটাকে উপভোগ করা যায়। কিন্তু দেখা যায়, এই তরুণ বয়সে আমরা কাজ করি, যত বয়স বাড়ে, কাজ আর দায়িত্ব বেড়েই চলে। পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে ছুটতে হয়। কিন্তু নিজেকে আর ফিরে দেখা হয় না। এভাবে অল্প বয়সে আমরা নিজের ভালোটা ভুলে যাই। যেমন সামনে আমার বোনের বিয়ের। তারপরেও আমি ঘুরতে গিয়েছিলাম। এটা এমন না যে পরিবারকে ইগনোর করা। পরিবারের দায়িত্ব পালন করে নিজের ভালোটাও দেখতে হবে।’
একটা সময় ছিল শুটিংয়ের কারণে পারিবারিক কোনো আয়োজনে অনেক সময়ই যেতে পারতেন না। নিজের মতো করে পছন্দের গানটাও চর্চা করা হতো না। মাসের বেশির ভাগ সময় শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকতেন। কিন্তু এখন আগের মতো মাসের বেশির ভাগ সময় শুটিং করেন না জোভান। প্রায়ই শুটিংয়ের ফাঁকে বিরতি নিয়ে হারিয়ে যান দেশ বিদেশে। যেখানে নিজের মতো করে অবসর কাটান।
জোভান বলেন, ‘দুটি ঈদ ছাড়া অন্য সময়ে কাজে বিরতি রাখি। সেই সময়টা ঘুরি। একা ঘোরাঘুরিতে আমার বেশি ভালো লাগে। বিদেশেও বেশ কয়বার একা গেছি। পছন্দের জায়গাগুলোয় একা নিজের মতো ঘুরতে খুবই ভালো লাগে। নিজেকে আবিষ্কার করা যায়। মানুষের জীবনে একা ভাবার সময়টা দরকার। আমি কোন পথে আছি, সেগুলো বুঝতে পারি।
মানসিকভাবে ঘোরাঘুরি আমাকে সব রকম স্বস্তি দেয়।’ দেশ–বিদেশে শুটিং করেন, সেখানে ঘোরাঘুরি কেমন হয়? এমন প্রশ্নে জোভান বলেন, ‘শুটিংয়ে গিয়ে কখনোই ঘুরতে পারি না। রিলাক্স থাকা যায় না। মাথার ওপর টেনশন থাকে। একসঙ্গে দুই কাজ কঠিন। আমি ফ্রেশ মনে একা ঘুরতে পছন্দ করি। একটা কথাই বলব, জীবন চালিয়ে নিতে টাকার দরকার আছে কিন্তু জীবনকেও সময় দিতে হবে।’
