প্রায় ৬ মাস পর দেশে ফিরছেন ঢালিউডের সুপারস্টার শাকিব খান। এর আগে কখনো এত বেশি সময় তিনি মাতৃভূমি ছেড়ে থাকেননি। গত বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন শাকিব। জানা গেল, খুব শিগগিরই দেশে আসছেন তিনি।
সোমবার রাতে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক প্রশ্নের জবাবে এই নায়িক বলেন, ‘দেশে ফেরার সময় হয়ে গেছে। শিগগিরই দেশে ফিরবো। আমি এখানে আরাম আয়েশে বসে আছি এমনটা নয়। কাজের মধ্যে আছি। আমেরিকার মতো দেশে সিনেমার শুটিং করা মুখের কথা না। সবকিছু গোছাতে একটু সময় লাগছে।’
ঢাকাই ছবির এই সুপারস্টার বলেন, কিছু মানুষের বদ দোয়া আমাকে কখনও কিছু করতে পারেনি। বহু বছর ধরে দেখেছি এরা আসলে স্বার্থান্বেষী মহল। তাদের বাজে কথায় কান দিতাম, তাহলে হয়তো আরও আগেই থেমে যেতে হতো। দশজন আমার খারাপ চাইলেও কোটি মানুষ আমার জন্য ভালো চায়, আমার জন্য দোয়া করে। তাদের ভালোবাসার শক্তিতে আমি দ্বিগুণ এগিয়ে যাই। সবাইকে খুশী করে চলা পৃথিবীর কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভব না। সবসময় আমার কাজটা করেছি এবং যতদিন বেঁচে থাকবো করে যাবো।
প্রায়ই কিছু মানুষ বলে বেড়ায়, ‘এই ঈদে শাকিব খানের স্টারডম শেষ’! প্রশ্নটা শুনেই হাসছিলেন এই সুপারস্টার। উত্তরটা দিয়েছেন এভাবে, “এ কথাটা কি এবারই প্রথম শুনলে? এটা আমি শুনে আসছি গত ১৫ বছর ধরে। যেদিন থেকে সিনেমায় আমার একটা পজিশন তৈরি হয়েছে তখন থেকে আমাকে শুনতে হচ্ছে, ‘শাকিব খান পিছিয়ে গেছে আর হবে না।’ মন থেকে বলছি, এভাবে যতবার আমাকে আটকানো হয়, মানুষের দোয়া-ভালোবাসায় আমি দ্বিগুণ এগিয়ে যাই।”
“মানুষ আমাকে কতটা ভালোবাসলে বলতে পারে, আপনি শুধু ভালো ভালো কাজ করে যান; আপনার সিনেমা সুপারহিট করার দায়িত্ব আমাদের। প্রায়ই দেখি ফেসবুকে ফ্যানরা লেখে, আপনার প্রতি ভালোবাসা ততদিন থাকবে যতদিন সূর্য জ্বলবে। অথচ এই মানুষগুলোকে আমি চিনি না, তারা আমাকে সামনে থেকে কোনোদিন দেখতে পাবে কিনা তাও জানে না। কিন্তু সবসময় আমাকে সমর্থন দিতে থাকে। আমার জন্য রাস্তায় নামে! আমার জন্মদিনটি দূর থেকে উদযাপন করে। এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসার কাছে সারাজীবন কৃতজ্ঞ হয়ে থাকবো। তাদের ভালোবাসার কাছে দু-চারজন মানুষের কথা গায়েই লাগে না।”-সার্বিক বিষয়ে বলছিলেন শাকিব খান।
শাকিব খান বলেন, গুটি কয়েক মানুষের জন্য নয়, আমি সিনেমা করি লাখ লাখ মানুষের জন্য। তারা কেউ আমার সিনেমা ফ্রি দেখে না। কষ্টে উপার্জিত টাকার একটি অংশ থেকে সময় ব্যয় করে আমার সিনেমা দেখে। দিনশেষে সিনেমা হিট কিংবা ফ্লপ করায় তারা। যত বাধা-বিপত্তি আসুক না কেন, সবসময় আমার লাখ লাখ দর্শক দূর-দূরান্তে গিয়ে হলেও আমার সিনেমা দেখেছে। এবারও চেষ্টা ছিল আমার সিনেমা আটকানোর। তার মানে নিশ্চয়ই পরিষ্কার, আমার সিনেমা বেশি এগিয়ে আছে! একজন অভিনেতার ক্যারিয়ার নির্ভর করে দর্শকের উপর। প্রভাব খাটিয়ে মানুষের ভালোবাসা বাদে হয়তো সব পাওয়া যায়।
