সিলেট: ১৮ বছর আগে ২০০৪ সালে এমন পানি হয়েছিল। সিলেটে এবারের বন্যা পরিস্থিতি মনে করিয়ে দিল সেই স্মৃতি। গত ১৮ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে বড় বন্যা হয়েছে। উজানে বৃষ্টি না থামলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।
এমন মন্তব্য পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেট কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী নিলয় পাশার। পাউবোর এই কর্মকর্তার মন্তব্য থেকেই বোঝা যাচ্ছে, সিলেটে এবারের বন্যার ভয়াবহতা।
সিলেটের বেশির ভাগ এলাকাই এখন ভাসছে বন্যায়। মঙ্গলবারও পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্রবেশ করছে শহর ও গ্রামে। প্লাবিত হয়েছে নতুন নতুন এলাকা। ইতোমধ্যে ডুবে গেছে সিলেটের সবকটি হাওর। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিভিন্ন স্থানে তীর বেয়ে প্রবেশ করছে।
সিলেট সুরমা নদীর পানি ১২৯ ও কানাইঘাট সুরমার পানি ১৪৩ এবং কুশিয়ার নদীর পানি এখন ১৫০ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী একেএম নিলয় পাশা।
সর্বত্র পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়ছে জনদুর্ভোগ। বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও সিলেট নগরীর কয়েকটি এলাকার হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। সিলেটের ১৩ উপজেলার মধ্যে কানাইঘাট, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক অবনতি হয়েছে। অধিকাংশ গ্রামীণ রাস্তাঘাট এখন পানির নিচে। বাড়িঘরেও প্রবেশ করেছে পানি।
ফলে মানুষের দুর্ভোগের পাশাপাশি গো-খাদ্যের সংকটও দেখা দিচ্ছে। এর পরের স্থানে রয়েছে সিলেট সদর। প্রত্যেক উপজেলায়ই বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। এখন পর্যন্ত লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। মঙ্গলবার পর্যন্ত ১৩০ টন চাল বরাদ্দ ও ১ হাজার ১০টি শুকনো খাবারের প্যাকেট বন্যার্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম।
জানা গেছে, পাহাড়ি ঢলে পানি বৃদ্ধি পেয়ে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীসহ বিভিন্ন নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। নদীর তীর উপচে একের পর এক এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। জেলা শহরের সঙ্গে গোয়াইনঘাট, কানাইঘাটসহ কয়েকটি উপজেলার সংযোগ স্থাপনকারী সড়কগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কেও যান চলাচল বিঘ্ন ঘটছে।
মঙ্গলবার দুপুর সিলেট থেকে গোবিন্দগঞ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে মাঝপথ থেকে গাড়ি নিয়ে ফিরে আসতে হয়েছে অনেক সিএনজি অটোরিকশাচালককে। চাতল এলাকার চালক শায়েখ আহমদ জানান, প্রধান সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় ছোট যানবাহন চলাচল সম্ভব হচ্ছে না।
সিলেট সদরের জালালাবাদ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান ওবায়দুল্লা ইসহাক। একইভাবে সীমান্তবর্তী ৪টি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েকলাখ মানুষও দুর্ভোগে রয়েছেন।
