প্রখ্যাত অভিনেতা এবং নাট্যনির্দেশক তারিক আনাম খান জীবনের আরেকটি বসন্ত পার করেছেন। মঙ্গলবার (১০ মে) ছিল তার ৬৯তম জন্মদিন।
এবারের বিশেষ এই দিনটি পরিবারের সঙ্গে কাটাচ্ছেন তিনি। কোনো শুটিং না থাকায় বাসাতে সময় দিচ্ছেন আপনজনদের। তবে বিশেষ কোনো আয়োজন রাখেননি।
সামাজিক মাধ্যমে দিনভর অসংখ্য ভক্ত ও সহকর্মীদের কাছ থেকে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা পাচ্ছেন তারিক আনাম খান। বিষয়টির জন্য সবার প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
তারিক আনাম খানের এই বয়সের জন্মদিন ও তার শৈশবের জন্মদিন একদম ভিন্ন রকম ছিল বলে জানিয়েছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা।
জন্মদিনে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এই অভিনেতা বলেন, ‘ছোটবেলার জন্মদিনটা ছিল একেবারে ভিন্ন। দিনটিতে বাবা জন্মদিনের কথা বলতেন, আর মা আমার পছন্দের ভালো খাবার-দাবার রান্না করে খাওয়াতেন। এর বাইরে কিছুই হতো না। কিন্তু এখনকার বিষয়টা একেবারে আলাদা। আপনজনরা সরাসরি আবার অনেকে সামাজিক মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, উপহার দিচ্ছেন; যেটা আসলে অন্যরকম ভালো লাগার।’
তিনি জানান, মূলত জন্মদিনটা বিশেষভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছেন বিয়ের পরে। এখন এইদিনে স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে দিনটি আনন্দে কেটে যায় তার।
বিশেষ কোনো জন্মদিনের কথা মনে পড়ে?
জন্মদিন এলে বাবার কথা খুব মনে পড়ে। বাবা আমাদের জন্মদিনটা খুব মনে রাখতেন। আমার ও ছোট ভাইয়ের জন্মদিন অ্যানাউন্স করতেন খুব মজা করে। একটা জন্মদিনের কথা খুব মনে পড়ে। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিংয়ের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছিলাম। মে মাসে আমি ছিলাম বশিরহাটে। হঠাৎ শরীরটা খারাপ হয়। জন্মদিনের দিন চিকেন পক্স উঠল। সারা গায়ে পক্স। প্রায় এক মাস ভুগেছিলাম। এক কাপড়ে থাকতে হয়েছে।
ঈদ কেমন কাটল?
সব সময় ঈদকে ঘিরে বেশ কিছু কাজ করা হয়। এবার ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইয়ে ‘দৌড়’ রিলিজ হলো। ভালো সাড়া পাচ্ছি। বঙ্গর জন্য করলাম ‘সাদা প্রাইভেট’। ছোট্ট আশা, ছোট্ট স্বপ্ন ঘিরে ‘সাদা প্রাইভেট’। মোস্তফা কামাল রাজের পরিচালনায় করলাম ‘নয়া লাইলী নয়া মজনু’। মজার আড়ালে জীবনের গভীর একটা কথা বলার চেষ্টা। প্রসূন রহমানের পরিচালনায় অভিনয় করলাম ওয়েব ফিল্ম ‘জিরো পয়েন্ট’। প্রসূন চমৎকার লেখেন, সাহিত্য পড়েন, সিনেমা দেখেন এবং অতীব সজ্জন। ঈদে দেশের কনটেন্টগুলোর পাশাপাশি ওটিটিতে বাইরেরও অনেক কাজ দেখা হয়েছে। ঈদের ছুটিটা এভাবেই কাটানো হলো।
শুটিংয়ে কবে ফিরছেন?
স্ক্রিপ্ট নিয়ে যোগাযোগ করেছিলেন কয়েকজন। থিমেটিক্যালি ভালো স্ক্রিপ্ট পাচ্ছি। কাজ করলে ভালো লাগবে। একটু আধুনিক চিন্তাভাবনার কাজগুলো করতে চাচ্ছি। পুরোনো সেন্টিমেন্টের গল্পে এখন কাজ করতে চাচ্ছি না। কথাবার্তা পাকা হলে ফিরব শুটিংয়ে।
