জামালপুরে ‘গলুই’ বন্ধ, এবার মুখ খুললেন শাকিব খান নিজেই

জামালপুর সদরের শিল্পকলা নতুন অডিটোরিয়াম ভবন, ইসলামপুরে ফরিদুল হক খান দুলাল অডিটোরিয়াম, মাদারগঞ্জে নুরুন্নাহার মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়ামে চলা ‘গলুই’ সিনেমার প্রদর্শন বন্ধ করে দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোর্শেদা জামান।

কারণ হিসাবে জানা গেছে, ১৯১৮ সালের আইন অনুযায়ী প্রেক্ষাগৃহ ব্যতীত বাণিজ্যিকভাবে সিনেমা প্রদর্শনী করা যাবে না। ওই সময় সিনেমা হল সুরক্ষার জন্য আইনটি করা হয়েছিল। আইনটি করার ১০৪ বছর পেরিয়ে গেলেও তা আর সময়োপযোগী করা হয়নি। ফলে খুব সহজেই আইনের প্রয়োগ করলেন জেলা প্রশাসক।

জানা গেছে, জামালপুরে একটি মাত্র প্রেক্ষাগৃহ থাকায় দর্শকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় তিনটি অডিটোরিয়াম ভাড়া করে ‘গলুই’ প্রদর্শনী হচ্ছিল। সিনেমাটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছে হাজারো দর্শক। তবে আইন বলছে, এমন ব্যবস্থায় সিনেমা চালানো অনুমতি নেই। যার কারণে সিনেমাটির প্রদর্শনী বন্ধ করে দেয়া হয়।

তবে সিনেমাটির প্রদর্শনী বন্ধের খবরে এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অনেকেই। একদিন পর সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন সিনেমাটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা শীর্ষনায়ক শাকিব খান।

বর্তমানে অবস্থান করছেন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখান থেকেই কথা বলেছেন সিনেমাটি নিয়ে। ফেসবুকে নিজে ভেরিফায়েড পেজে আজ (১০ মে) তিনি লেখেন, ‌‘করোনায় গত দুই বছর দেশের সিনেমা অনেকটাই থমকে ছিল। এবারের ঈদে ভালো মানের সিনেমা মুক্তিতে গতি আসা শুরু করছিল। সবাই ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্নও দেখছিলেন। প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী কলাকুশলী থেকে শুরু করে সিনেমা হল মালিক- প্রত্যেকের তাই দৃষ্টিই ছিল ঈদের সিনেমার দিকে। মুক্তির প্রথমদিন থেকেই আমার অভিনীত দুটি সিনেমা ‘গলুই’ ও ‘বিদ্রোহী’র হল রিপোর্টও দারুণ পাচ্ছিলাম। বিশেষ করে ‘গলুই’র দর্শকপ্রিয়তা ছিল শুরু থেকেই ছিল অন্যরকম ভালো লাগার। সুস্থ ধারার এই সিনেমা দেখতে মানুষ পরিবার নিয়ে আবার সিনেমাহল মুখী হয়েছেন; সংশ্লিষ্ট সবাইও তেমনটাই বলছিলেন।’

‘গলুই’র প্রসঙ্গে এই সুপারস্টার বলেন, ‘‘নতুন প্রজন্ম সরকারি অনুদানে তৈরি ‘গলুই’ সিনেমার মাধ্যমে নতুন করে আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারছিল; যা আমাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করছিল। কারও হয়তো অজানা নয় যে, ‘গলুই’র বেশিরভাগ শুটিং জামালপুর জেলায় হয়েছে। ফলে অন্য যে কোনো জায়গার চেয়ে ছবিটি নিয়ে সেখানকার মানুষের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। অথচ এই জেলা শহরে নেই কোনও সিনেমা হল! বাধ্য হয়ে সংশ্লিষ্টরা জেলা শিল্পকলাসহ চারটি মিলনায়তনে ঈদের দিন থেকে সিনেমাটি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করেন। এসব মিলনায়তনে দর্শকেরও উপস্থিতি ছিল উপচে পড়া।’

তিনি আরও বলেন, ‘একের পর এক সিঙ্গেল স্ক্রিন বন্ধ হওয়ার এই সংকটকালে জামালপুরে বিকল্প ব্যবস্থায় ‘গলুই’ মুক্তির বিষয়টি সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। যা হতে পারতো সিনেমাহলহীন অন্য জেলা কিংবা উপজেলা শহরগুলোর জন্য দৃষ্টান্ত। বাস্তবে ঘটলো উল্টোটা! বাঁধ সাধলো জামালপুর জেলা প্রশাসন! সিনেমাপ্রমীদেরও মন ভেঙে গেল। নানান মাধ্যম থেকে জানতে পেরেছি, শত বছর আগের তৈরি ‘সিনেমাটোগ্রাফ অ্যাক্ট’-এর দোহাই দিয়ে মিলনায়তনগুলোতে ‘গলুই’র প্রদর্শনী বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে! যা শুধু আমাকে ব্যথিত করেনি, বরং বিস্মিত ও হতবাক করেছে। ‘গলুই’ সিনেমাটি যখন সাধারণ মানুষেরা সানন্দে গ্রহণ করেছেন, পরিবার নিয়ে দেখছেন; তখন এর প্রদর্শনী বন্ধের খবরে চলচ্চিত্রের প্রত্যেকটি মানুষ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষেরাও প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছেন।’’

সবশেষে শাকিব খান বলেন, ‘‘অতীতে বিকল্প ব্যবস্থায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক সিনেমার প্রদর্শনী হয়েছে! সেসব সিনেমা প্রদর্শনে প্রশাসন সহায়তা করেছে। তাহলে ‘গলুই’ বিকল্প ব্যবস্থায় প্রদর্শন হতে সমস্যা কোথায়? চলচ্চিত্রের সোনালী অতীত ফিরিয়ে আনতে সরকারের নানামুখী পরিকল্পনার কথা শুনে আসছি। সিনেমাহল মালিকদের স্বল্প সুদে ঋণ দেয়া, সুস্থ ধারার চলচ্চিত্রের সঠিক প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা, সিনেমা নির্মাণে বড় অনুদানসহ সরকারের বেশকিছু পরিকল্পনা হয়তো এখন বাস্তবায়নের পথে।

একইসঙ্গে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও চলচ্চিত্র উন্নয়নের আশ্বাস সবসময়ই দিয়ে থাকেন। আর সেই সময় যখন ব্রিটিশ আমলে তৈরি সিনেমা স্বার্থ বিরোধী আইন দিয়ে পথ রোধ করা হয়, তখন বিষয়টি হয়ে ওঠে সাংঘর্ষিক। এমন অবস্থা বিরাজমান থাকলে বাংলা সিনেমা দিয়ে বিশ্বজয় করা তো দূরে থাক, এগিয়ে যাওয়াই অসম্ভব!’’

উল্লেখ্য, পিরিওডিক্যাল রোমান্টিক গল্পের ছবি ‘গলুই’ ২০২০-২১ অর্থবছরে সরকারি অনুদান পেয়েছে। এর সহ-প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু। চলচ্চিত্রটিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে আছেন শাকিব খান ও পূজা চেরী। আরও অভিনয় করছেন আজিজুল হাকিম, সমু চৌধুরী, ঝুনা চৌধুরী প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *