ব্রেন টিউমার ও ক্যান্সারের কাছে পরাজিত হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমানো মোশররফ হোসেন রুবেলের কবরটি মানবিক বিবেচনায় স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র আতিকুল ইসলাম।
রোববার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মকবুল হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মেয়র আতিকুল ইসলাম এই মুহূর্তে ওমরা পালনে পবিত্র নগরী মক্কায় অবস্থান করছেন। তিনি সংবাদ মাধ্যমে আবেদনটি জেনে কবরটি সংরক্ষণ করতে এই নির্দেশনা দিয়েছেন।
ক্রিকেটার মোশাররফ হোসেন রুবেলের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে মেয়র বলেছিলেন, মোশাররফ হোসেন রুবেল নিজের জন্য খেলেনি, দেশের জন্য খেলেছেন। তার অবদান দেশের মানুষকে গর্বিত করেছে। সে কারণে তার কবরটি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব বলে মনে করছি।
ক্রিকেটার রুবেলের স্ত্রী ও শিশু সন্তানের বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় নিয়ে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, যে মানুষটি বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের সুনাম ছড়িয়ে দিয়েছেন সে মানুষটি চিরবিদায়ের বেলায় এক টুকরো মাটি পাবে না, তা হতে পারে না।
গত ১৯ এপ্রিল না ফেরার দেশে পাড়ি জমান জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার রুবেল। মৃত্যুর পর ‘হোম অব ক্রিকেট’ খ্যাত মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জানাজা শেষে রুবেলকে দাফন করা হয় বনানী কবরস্থানে। গত শুক্রবার (২২ এপ্রিল) রুবেলের স্ত্রী চৈতি ফারহানা রূপা স্বামীর কবর জিয়ারত করতে এসে কবর স্থায়ীকরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও মেয়রের কাছে আকুল আবেদন জানান।
বনানী কবরস্থানে কাউকে দাফন করার ২ বছর পর সেখানে নতুন করে কাউকে দাফন করার রীতি রয়েছে। তবে আছে কবর স্থায়ী করার পদ্ধতি, সেক্ষেত্রে প্রায় কোটি টাকার মত খরচ হয়। রুবেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হওয়ার পরিবারের স্বভাবতই সেই সাধ্য নেই।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে রুবেলের স্ত্রী ফারহানা রুপা বলেন, রুবেল তো আসলে আমাদের সবার, না? রুবেল তো দেশের জন্য খেলেছে। মাত্র দুই বছরের জন্য সে এখানে। সত্যি বলতে এখানে স্থায়ী করতে হলে অনেক টাকা লাগে। প্রায় এক কোটির মতো। আমাদের কাছে তো এতো টাকা নেই। আমি চাই রুবেলের কবরটা স্থায়ী হোক। ও যেন একটু মাটি পায়।
রুপা আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার একটাই চাওয়া, আপনি তো অনেককেই অনেক কিছু দেন। ক্রিকেটারদের জন্য অনেক কিছু করেন। রুবেলের মতো মৃত ক্রিকেটারকে কি এক ফোটা মাটির ব্যবস্থা করে দেবেন। শুধু একটি স্থায়ী কবর। আর কিছু চাওয়া নেই আমার।
