ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষে দুই দিনে নিউমার্কেট এলাকার ১০ হাজার ব্যবসায়ীর প্রায় ২০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তবে আজও যদি দোকান না খোলা হয় তাহলে ফুটপাতসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীর এ ক্ষতি আরও বাড়বে।
বুধবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে গণমাধ্যমকে এ কথা জানান নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন। এর আগে দুপুর ২টায় নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির অফিসে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন বলেন, এ ঘটনার পর থেকে ঢাকা কলেজের কোনো প্রতিনিধি আমাদের কাছে আসেননি। যারা এসেছিলেন তারা ঢাকা কলেজের কি না জানি না। আমাদের প্রতিনিধিও ঢাকা কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। তবে আমরা দোকান খুলতে চাই। আমরা আলোচনা করতে চাই, উভয়পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় পুরোপুরি প্রস্তুত। এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে দায়িত্ব আমাদের, ব্যবসায়ীদের।
তবে কী ধরনের দায়িত্ব পালন করবেন- এ প্রশ্ন এড়িয়ে যান ডা. শাহীন। একই সঙ্গে উভয়পক্ষের আলোচনার মাধ্যমেই দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে সংবাদ সম্মেলনে দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন বলেন, ঢাকা কলেজ একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। করোনার কারণে ২ বছর ধরে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত। ঈদকে সামনে রেখে আমরা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। এ অবস্থায় আমরা শান্তিপূর্ণ সমাধান প্রত্যাশা করছি। কলেজ কর্তৃপক্ষসহ ব্যবসায়ীরা মিলে আমরা কয়েকদিনের মধ্যে একটি কমিটি গঠন করব। যাতে এমন কোন ঘটনা ঘটলে যা যা করা দরকার আলোচনা সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে পারি। যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে। আমরা এই সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রত্যাশা করছি। সকলে মিলে এ এলাকায় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চাই। এজন্য সকলের কাছে সহযোগিতা চাই।
মার্কেট খোলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মার্কেট খোলার বিষয়ে আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে গিয়েছিলাম। আমরা চাচ্ছি উভয়ের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে যদি দোকান খোলা হয়, তাহলে আর সমস্যা থাকবে না। আশা করছি, অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে আমরা দোকান খোলতে পারব।
ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে আমাদের যে সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে, এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা তা পালন করবেন।
