নায়করাজ রাজ্জাকপুত্র খালিদ হোসেন সম্রাট। বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। তবে এখন সেভাবে সিনেমার পর্দায় দেখা মেলে না তার। এমনকি চলচ্চিত্রের কোনো অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি চোখে পড়ে না। এর কারণ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন খালিদ হোসেন সম্রাট।
সম্রাট বলেন, সোজা কথা বলতে কি আমরা শিল্পী, রাজনীতি জানি না। এফডিসিতে এখন রাজনীতির ঘাঁটি হয়ে গেছে। সবাই দেখি রাজনীতি করে। আপনি কাজ নিয়ে আলোচনায় ডাকেন, কখনও লাগবে রাতে-দিনে? যে কোনো সময় এফডিসিতে ডাকেন চলে আসবো। আপনি এখানে একটা অ্যাক্টিং ইনস্টিটিউশন খোলেন, সেখানে পার্টিসিপেট করতে বলেন করবো। যেখানে আমাদের কিছু শেখানো হয় না, পজিটিভ কিছু হয় না সেখানে সময় দিয়ে সময় নষ্ট। আরো মন খারাপ হবে।
তিনি বলেন, এফডিসিতে এক সময় সারাদিন পরে থাকতাম, কারণ তখন একটা সময় ছিল কাজ করার, সারাদিন শুটিং করেছি, পরিবারের মতো ছিলাম আমরা সবাই। এখন কাজ হচ্ছে না। এখন যেটা হচ্ছে এই সমিতি, ওই সমিতির পলিটিক্স। যে জিনিসটা বুঝি না সেখানে কেন যাবো?
‘আরেকটি ব্যাপার হলো আমাদের দর্শক ভালোবাসেন কেন? আমাদের কাজের জন্য। এখন যারা রাজনীতি করছেন তাদের কিন্তু মানুষ ভালো চোখে দেখছে না। সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষের রিঅ্যাকশন দেখলেই বুঝতে পারবেন।’
সম্রাট বলেন, সবাই সবার জায়গায় ভালো থাকুক। আমার কথা হচ্ছে, যেখানে কাজ থাকবে, সেখানে কাজের প্রয়োজনে যখন ডাকবে যাবো। কাজ ছাড়া এই রাজনীতি- এগুলোর মধ্যে নেই। আব্বা এই শিক্ষা দেয়নি, আর আমরাও শিখিনি।
চলচ্চিত্রে দেখা না যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফিল্ম রিলিজ হয় কই? এত সিনেমার কাজ হচ্ছে কয়টা রিলিজ হয়? যেগুলো রিলিজ হয় সেগুলো রেজাল্ট আছে? ফিল্মে ক্যারিয়ার প্ল্যান করার। আমার মতে আমার যে বয়স হয়েছে, আমার ম্যাচুরিটি অনুযায়ী ক্যারেক্টারও পাই না। ওখানে আসলে অ্যাফোর্ড দিয়েও লাভ নেই। একটা হয় না- আমি পরিশ্রম করছি, অ্যাফোর্ড দিচ্ছি এটার আউটপুট আসবে, দর্শকদের কাছে যাবে, সেটাও হচ্ছে না। সিনেমা হল নেই, সিনেমা রিলিজ হচ্ছে না। যদি ৫০-৬০ হলে সিনেমা রিলিজ দিতে না পারি তা হলে লাভ কি? আমার কাছে সিনেমা হলো- হিরো এন্ট্রিতে তালি বাজবে, সিটি বাজবে, ডায়লগ অ্যাকশনে তালি বাজবে। দর্শক সিনেমা দেখছেন কি দেখছেন না তাও তো বুঝতেছি না।
