ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা ববি। কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমেও সামিল হওয়ার চেষ্টা করেন এ নায়িকা। মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে দারুণ এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় অবস্থিত একটি এতিমখানায় গিয়ে এতিম শিশুদের সঙ্গে ইফতার করেছেন এই অভিনেত্রী।
জানা যায়, ৫ এপ্রিল ছিল ববির বাবা মরহুম কে এম ইমামুল হকের মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৯ সালের এই দিনে তিনি মারা যান। বাবার জন্য দোয়া ও মোনাজাতের অংশ হিসেবেই এদিন বিকেলে মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় অবস্থিত ‘মিফতাহুল উলূম মাদ্রাসা’য় হাজির হন তিনি। দোয়া ও মোনাজাতের পাশাপশি সেখানে ৫০ জনের অধিক এতিম শিশুর সঙ্গে ইফতার করেন নায়িকা।
এতিম শিশুদের সঙ্গে ইফতারের কিছু ছবি আজ (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পেজে শেয়ার করেন ববি। ক্যাপশনে লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! কী যে শান্তি তাদের সাথে’। সঙ্গে জুড়ে দেন ভালোবাসার ইমোজি।
ছবিতে দেখা যায় এতিম শিশুদের সঙ্গে এক কাতারে বসেই ইফতার করছেন তিনি।
মুহূতেই সে পোস্টে লাইক-কমেন্টের জোয়ার বইতে শুরু করে। সবাই ববির এমন উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।
এদিকে নায়িকার একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, ঢাকার পাশাপাশি এদিন ‘পথশিশু ফাউন্ডেশন’-এও ইফতার করান তিনি। এছাড়া গ্রামের বাড়ি জামালপুরে যেখানে তার বাবাকে কবর দেওয়া হয়েছে সেখানেও মিলাদ মাহফিল ও ইফতারের আয়োজন করা হয়।
এর আগে ৫ এপ্রিল মধ্যরাতে প্রয়াত বাবার কথা মনে করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ‘বিজলী’ খ্যাত অভিনেত্রী, যা তিনি এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে প্রকাশ করেন নিজের ফেসবুক পেজে। ববির সেই স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো-
‘কী যে ভয়ংকর রাত এপ্রিলের ৫ তারিখ। সবাই বলে আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে! ভয়, অস্থিরতা, কান্না, কষ্ট যত সময় যাবে, ওই রাত আর এমন লাগবে না। কিন্তু আমার তো কমছে না। বরং কখনো কখনো বাড়ছে। মাঝে মাঝে বিশ্বাস হয় না আব্বা নেই। যে মানুষটা এত সব কিছু করে দিল। তিনি আর নেই। কিন্তু তার শিক্ষা, মানুষের জন্য ভালোবাসা, সরলতা, বুঝে হোক আর না বুঝে হোক, সব সময় মানুষের বিপদে পাশে থাকার চেষ্টা এসব তো আর মুছে যাবে না।’
‘অনেক দেখতে ইচ্ছে করে, জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করে, একসাথে বসে খেতে ইচ্ছে করে, মুভি দেখতে ইচ্ছে করে, ক্রিকেট খেলা দেখার সময় বাংলাদেশ না জিতলে প্রেসার হাই হয়ে যাওয়া, এত honesty, loyalty, simplicity, এত strong support system কোথায় পাবো। অনেক কথা ছিল তোমার সাথে, বলতে পারলাম না। আব্বা তুমি চলে যাবার আগের দুই সপ্তাহ আমি ইন্ডিয়াতে শুটিং করছিলাম। নিজেকে খুব অপরাধী মনে হয়। I wish I could b with you that time.’
‘অনেক কিছু গুছিয়ে লিখতে পারি কিন্তু তোমার কথা ঠিকমতো লিখতে পারি না। এতকিছু সারাক্ষণ মনে হয় যে আর লিখতে পারিনা। কত আবদার কত ভালোবাসা কত অভিমান সব তোমার সাথে নিয়ে গেছো। তারপরও বাবা তুমি আমার যত খুশির কারণ।
‘আমার বাবা সেই জন্য বলছি না! তুমি অনেক বড় মনের একজন মানুষ। আমার যা কিছু সব তোমার জন্য। ভালো থেকো, plz pray for my Father। রাব্বির হাম হুমা কামা রাব্বায়ানি সগীরা।’
