টিপ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় এবার সিলেট জেলা পুলিশের কোর্ট পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে ক্লোজড করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্তের জন্য জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন।
সোমবার (৪ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে ক্লোজড করে এ আদেশ দেন পুলিশ সুপার। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন।
তদন্ত কমিটির প্রধান সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) লুৎফর রহমান বলেন, পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার বিষয়টি তদন্তের জন্য তিন সদস্যের বিভাগীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন পুলিশ সুপার। এরপর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে টিপকাণ্ডের প্রতিবাদকারীদের বিদ্রূপ করেন লিয়াকত। এতে নারীর পোশাক নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি।তবে সন্ধ্যার দিকে নিজের স্ট্যাটাসটি মুছে (ডিলিট) দেন লিয়াকত।
দুপুরে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া স্ট্যাটাসে লিয়াকত লিখেন- ‘টিপ নিয়ে নারীকে হয়রানির করার প্রতিবাদে অনেক পুরুষ নিজেরাই কপালে টিপ লাগাইয়া প্রতিবাদ জানাচ্ছে। কিন্তু আমি ভবিষ্যৎ ভাবনায় শংকিত। বিভিন্ন শহরে অনেক নারীরা যেসব খোলামেলা পোশাক পরে চলাফেরা করেন- তারমধ্যে অনেকেরই ব্রা য়ের উপরে দিকে প্রায় অর্ধেক আন-কভার থাকে। পাতলা কাপড়ের কারণে বাকি অর্ধেকও দৃশ্যমান থাকে। এখন যদি কোনো পুরুষ এইভাবে ব্রা পরার কারণে কোনো নারীকে হয়রানি করে তবে কি তখনও আজকে কপালে টিপ লাগানো প্রতিবাদকারী পুরুষগণ একইভাবে ব্রা পরে প্রতিবাদ করবেন ???”
এমন স্ট্যাটাসের ব্যাপারে জানতে চাইলে সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলী বলেন, ওই স্ট্যাটাস আমি ডিলিট করে দিয়েছি। যেটা ডিলিট করে দিয়েছি, যেটার অস্তিত্বই নাই সেটা নিয়ে আমি কথা বলবো না। স্ট্যাটাস কেন ডিলিট করলেন এমন প্রশ্নের জবাবে লিয়াকত বলেন, আমার ভালো লাগছিলো তাই দিছিলাম। পরে ভালো লাগে নাই তাই সরিয়ে দিয়েছি। তাছাড়া ওটা আমার ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্ট। প্রাতিষ্ঠানিক কিছু না।
