‘গো ইমরান গো’ স্লোগানে উত্তাল পাকিস্তানের সংসদ

অনাস্থা ভোটের আগে পাকিস্তানের সংসদের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন দেশটির বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতারা। বৃহস্পতিবার অনাস্থা ভোটের বিষয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় এই দাবি জানান তারা।

অধিবেশন শুরুর পরপরই জাতীয় পরিষদের স্পিকার তা স্থগিত করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন দেশটির বিরোধী দলীয় আইনপ্রণেতারা। এ সময় বিরোধীদের ‘গো ইমরান গো’ স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ।

অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির কারণে দেশটিতে ব্যাপক চাপের মুখোমুখি হয়েছেন ৬৯ বছর বয়সী ইমরান খান। বুধবার পিটিআইয়ের জোটসঙ্গী মুত্তাহিদা কউমি মুভমেন্ট-পাকিস্তান (এমকিউএম-পি) জোট সরকার থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছেন ইমরান খান।

পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইমরান তার মেয়াদ পূরণ করতে পারেন কি না, এমন আলোচনা যখন বড় হচ্ছে, সে সময় সরকার থেকে তার সরে যাওয়া অনেকটাই নিশ্চিত। পার্লামেন্টে তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে অনাস্থা প্রস্তাব। আর অভাবনীয় কিছু না হলে তার পরাজয় নিশ্চিত প্রায়।

তারকা ক্রিকেটার ইমরান ২০১৮ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তবে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে তাঁকে। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও দিন দিন বাড়তে থাকা ঘাটতির জেরে ইমরানের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা সমালোচনার মুখে পড়েছে। এ ছাড়া সামরিক বাহিনীর সঙ্গে টানাপোড়েনের কথাও শোনা যাচ্ছে।

এসব পরিস্থিতির মধ্যে গত ২৮ মার্চ জাতীয় পরিষদে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করেন বিরোধী দলের নেতারা। মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট-পাকিস্তানসহ (এমকিউএম-পি) কয়েকটি দল ইমরান সরকারের জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় বিরোধীরা এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ বলে দাবি করা হচ্ছে।

গতকাল প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিরোধী পক্ষে এখন পর্যন্ত ১৭৭ জন আইনপ্রণেতা রয়েছেন। এ ছাড়া ইমরানের দল পিটিআইয়ের কয়েকজন আইনপ্রণেতাও প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিতে পারেন এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতাচ্যুত করতে জাতীয় পরিষদে অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে অন্তত ১৭২ ভোট প্রয়োজন হয়। পরিষদে মোট আসনসংখ্যা ৩৪২টি।

ইমরান খানের দাবি, সরকারের পতন ঘটাতে ‘বিদেশি চক্রান্ত’ রয়েছে। গত রোববার ইসলামাবাদে এক বিশাল জনসভায় একটি কাগজ দেখিয়ে সেটাকে ‘বিদেশি চক্রান্তের নথি’ বলে দাবি করেন ইমরান। গতকাল বুধবার মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠকেও ওই নথিটি দেখানো হয়। ওই বৈঠকে সদ্য জোট ত্যাগ করা এমকিউএম-পি ও বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টির (বিএপি) সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও তাঁরা উপস্থিত হননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *