শিগগিরই ঢাকায় আসছেন এরদোয়ান

ঢাকায় আসছেন এরদোয়ান

নজর২৪, ঢাকা- নিজেদের দূতাবাস উদ্বোধন করতে শিগগিরই ঢাকায় আসছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পরিস্থিতির উন্নতি হলে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোয়ান মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাংলাদেশে আসার ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন।

 

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে রাষ্ট্রিয় অতিথি ভবন পদ্মায় তুরস্কের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে চতুর্থ দফায় করোনার চিকিৎসা সামগ্রী উপহার দেয়া হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে এ উপহার তুলে দেন দেশটির রাষ্ট্রদূত মোস্তফা উসমান তুরান।

 

দেশটির পক্ষ থেকে ১০ হাজার পিস করে এন-৯৫ মাস্ক, গাউন, কাভারঅল; ২০টি করে ভেন্টিলেটর মনিটর, স্ট্যান্ড সেটসহ বেশ কিছু করোনা সামগ্রী দেয়া হয় বাংলাদেশকে। এ সময় দুদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়ানোর ব্যাপারে আশাবাদেরর কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

 

এ বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সব বিষয়ে তিনি বাংলাদেশের পাশে থাকবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। করোনা পরিস্থিতিতে তুরস্ক থেকে আরও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাঠানোর আশ্বাসও দেন এরদোয়ান। দু’দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে নিয়মিত বিরতিতে উচ্চতর পর্যায়ে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন প্রেসিডেন্ট তুরস্কের এরদোয়ান।

 

পরে বাংলাদেশের সঙ্গে তুরস্ক দুই বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য বাড়াতে চায় জানিয়ে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, তুরস্কের নতুন মিশন উদ্বোধনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রী ঢাকায় আসবেন। একইসঙ্গে তিনি মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলেও সম্মত হয়েছেন।

 

এর আগে গত ১৬ অক্টোবর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন এরদোয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। অনুষ্ঠানে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান ঢাকায় নবনির্মিত তুরস্কের দূতাবাস ভবন উদ্বোধনের সময় বাংলাদেশে ভ্রমণের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এরদোয়ান নতুন সদস্য রাষ্ট্র যুক্ত করে ডি-৮ সম্প্রসারণের ব্যাপারেও জোর দেন। এছাড়া দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব দেন। যার মধ্যে রয়েছে বিদ্যমান শুল্ক বাধা এড়িয়ে নতুন পণ্য, বস্ত্র, ওষুধ ও অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ। উভয় দেশের বাণিজ্যমেলায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

 

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশে তুরস্কের আর্থিক সহযোগিতায় একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দের জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট প্রস্তাব দিয়েছেন। এছাড়া তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *