ভুল বোঝাবুঝি না মিটিয়েই অভিষেক চলে গেল: ঋতুপর্ণা

আবারও নক্ষত্র পতন অভিনয় জগতে। প্রয়াত জনপ্রিয় অভিনেতা অভিষেক চট্টোপাধ্যায়। ৫৭ বছর বয়সে তার চলে যাওয়া অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ টলিউড। সাতসকালে এই দুঃসংবাদ পেয়ে কেউই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না অভিষেক চট্টোপাধ্যায় আর নেই।

অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তও প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেননি। এই খবরের সত্যতা মানতে মন চায়নি তার। ঋতুপর্ণার কথায়, “সকালে যখন খবরটা শুনি প্রথমে বিশ্বাস হচ্ছিল না।”

নব্বইয়ের দশকে প্রচুর ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন ঋতুপর্ণা-অভিষেক। অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে অভিনয় নিয়ে স্মৃতি সরণিতে হাঁটলেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা।

বললেন, “আমি ঠিক এই মুহুর্তে মনে করতে পারছি না, ওঁর সাথে কতগুলো ছবিতে কাজ করেছি। তবে অজস্র ছবিতে আমরা একসঙ্গে কাজ করেছি। তবে আমার জীবনের কিছু শ্রেষ্ঠ ছবি ওঁর সাথে করা। যেখান থেকে কমার্শিয়াল ছবির ‘হিট’কে আমি ছুঁয়েছিলাম; ‘গোল্ডেন জুবিলি’, ‘সিলভার জুবিলি’ তার একটা বড় অংশ নিঃসন্দেহে অভিষেক চট্টোপাধ্যায়।

ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বলেন, ‘মিঠু (অভিষেক) কী করে এভাবে চলে যেতে পারে? টেলিভিশনে আজকাল দেখে বুঝতাম ও শরীরের যত্ন নিচ্ছে না। ঘুম-খাওয়া কিছুই ঠিক সময়ে করতো না। ওর মনে হয়তো অনেক ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। প্রসেনজিতের পরে সবচেয়ে বেশি ওর সঙ্গে কাজ করেছি। আমাদের জুটি তো সুপার ডুপার হিট!’

অভিষেক-ঋতুপর্ণা জুটি দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিল। তার কারণ ব্যাখ্যা করে ঋতুপর্ণা বলেন, ‘অনেকেই বলে কেন আমাদের জুটি জনপ্রিয় ছিল? আসলে ওই সময় মিঠু তখন খুব সুপুরুষ! আজও সেই চেহারাটা আমার মনে আসে। সব মেয়েদের কাছে ক্রমশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল ও। আমাদের রসায়ন পর্দায় দারুণ জনপ্রিয় হয়েছিল। কী যে ভালো নাচ করতো ও। আমার দ্বিতীয় সুপারহিট সিনেমা কিন্তু ‘সুজন সখী’। আমরা দুজনেই ওই সিনেমা দিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে পাকাপাকি জায়গা করে নিয়েছিলাম। এই সিনেমা করে গ্রামেগঞ্জে আমাদের নাম ছড়িয়ে পড়ে। ওই সিনেমার গান এখনো খোলা মাঠের অনুষ্ঠানে আমায় গাইতে হয়।’

এক সময় অনেক সিনেমায় কাজ করলেও মাঝে যোগাযোগ ছিল না অভিষেকের সঙ্গে। তা জানিয়ে এ অভিনেত্রী বলেন, ‘‘অনেকদিন কোনো যোগাযোগ নেই। আমাদের শেষ সিনেমা ‘নীলাচলে কিরিটী’। ওর চলে যাওয়াটা বাংলা সিনেমায় শূন্যতা সৃষ্টি করবে। মিঠুর মতো অভিনেতারা বাংলা সিনেমার খরার সময় এসে ধরে রেখেছিল এই ইন্ডাস্ট্রিকে। স্বপন সাহার ‘সুজন সখী’ তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল এই ইন্ডাস্ট্রি।’’

অভিষেকের সঙ্গে একটা পর্যায়ে দূরত্ব তৈরি হয় ঋতুপর্ণা ঘোষের। তা জানিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘আমার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত ‘দহন’ সিনেমা মিঠুর সঙ্গেই করেছি। মিঠুই ঋতুপর্ণ ঘোষের কাছে আমার নামে খুব প্রশংসা করেছিল। এ কথা আগে কোথাও বলিনি। ও আমার ভালো চাইতো। এত ভালো বন্ধুত্ব আমাদের, তবে হঠাৎ ভুল বোঝাবুঝি হয়। আমি সবসময়ই ওর সম্পর্কে ভালো কথাই বলেছি। কিন্তু তাও কী যে হলো! ও আমায় বুঝল না। এমন কথা বলেছিল আমার সম্পর্কে যা সত্যি নয়।’

ঋতুপর্ণার সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হওয়ার আগেই চিরবিদায় নিলেন অভিষেক। এ নিয়ে আক্ষেপ রয়ে গেছে ঋতুপর্ণার মনে। তা উল্লেখ করে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘মিঠু সব সময় দুঃখবোধ লালন করতো তা কিন্তু না। বরং ও খুব হাসিখুশি ছিল। সেটে সবার সঙ্গে খুব মজা করতো। ওর ব্যবহার খুব বন্ধুসুলভ ছিল। সবাই ওকে খুব ভালোবাসত। খুব প্রাণবন্ত ছিল। পরিচালকের কাছে নিজেকে সমর্পণ করতো মিঠু। মনটা খচখচ করছে। আর তো কথা হবে না মিঠুর সঙ্গে। আমাদের ভুল বোঝাটা কী রয়েই গেল মিঠু?’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *