ফ্রান্সে মহানবীকে ব্যঙ্গ: মুখ খুলে ‘শুধু নিন্দা’ জানালো সৌদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর বিতর্কিত কার্টুন প্রদর্শন এবং ইসলাম ধর্মের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের ঘটনায় ফ্রান্সের বিরুদ্ধে অবশেষে মুখ খুলেছে ইসলাম ধর্মের তীর্থস্থান খ্যাত সৌদি আরব।

 

তুরস্ক, ইরানসহ বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্রগুলো ফরাসি পণ্য বর্জনের কথা বললেও সৌদি কেবল নিন্দা জানিয়েই বিষয়টিকে এড়িয়ে গেছে।

 

দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে আপত্তিজনক কার্টুন প্রকাশ কিংবা সন্ত্রাসের সঙ্গে ইসলামকে জড়ানোর যেকোনও উদ্যোগের নিন্দা জানাচ্ছে রিয়াদ।

 

মঙ্গলবার সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার দেওয়া এ বিষয়ক বিবৃতিটি দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, অন্যান্য মুসলিম দেশের মতো করে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ফরাসি পণ্য বর্জনের ডাক দেওয়া হয়নি।

 

সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির মাধ্যমে জানায়, বাক স্বাধীনতা এবং এর সংস্কৃতি শ্রদ্ধা, সহনশীলতা এবং শান্তির ভিত্তিতে হওয়া উচিত; যা ঘৃণা, সহিংসতা এবং চরমপন্থার উৎপত্তি ও সহাবস্থান বিরোধী চর্চা প্রত্যাখ্যান করে।

 

ফ্রান্সে ইতিহাসের এক শিক্ষক ক্লাসে মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর কার্টুন দেখানোর কারণে হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার ঘটনায় ফ্রান্সজুড়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মৌলবাদী ইসলামের বিপরীতে দেশের ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা নিয়ে দৃঢ়কণ্ঠে কথা বলেন।

ফ্রান্স ব্যঙ্গচিত্র দেখানো বন্ধ করবে না’ বলেও জানান তিনি।

 

তার এসব মন্তব্যে বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ইসলামিক ঐতিহ্যে মহানবী (সাঃ) ও আল্লাহর কোনো ছবি প্রদর্শন স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ। এ ধরনের কোনো কিছু মারাত্মক অপরাধ বলে গণ্য হয়।

 

‘বিশ্বাসের স্বাধীনতার’ প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন না করার জন্য ও ফ্রান্সের লাখ লাখ মুসলিমকে অবজ্ঞা করার জন্য ম্যাক্রোঁর তীব্র সমালোচনা করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিজেপ তায়িপ এরদোয়ান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

 

ইসলাম নিয়ে ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বিরোধের জেরে জনগণের প্রতি ফরাসি পণ্য বর্জনের ডাক দিয়েছেন এরদোয়ান।

 

এর আগে রোববার জর্ডান, কাতার ও কুয়েতের কিছু সুপারমার্কেটের ডিসপ্লে থেকে ফ্রান্সের তৈরি সৌন্দর্য চর্চার উপকরণসহ বিভিন্ন ফরাসি পণ্য সরিয়ে নেওয়া হয়। কুয়েতে খুচরা পণ্য বিক্রেতাদের একটি প্রধান সমিতি ফরাসি পণ্য বর্জনের আদেশও দিয়েছে।

 

এছাড়া প্যারিস থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নিতে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাবনা পাস হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *