কেউ আমার ইমোশনটাই বুঝল না: পরীমণি

মা হচ্ছেন পরীমণি, এটা সবারই জানা। অন্যদিকে, কাকতালীয়ভাবে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাওয়ার আগে ‘মা’ নামের ছবিও করছেন এই নায়িকা। যে সিনেমার শুটিংয়ে বাস্তবেই জন্ম নিলো অন্যরকম এক মায়ের গল্প।

শুটিংস্পটে ঘটে যাওয়া অতুলনীয় সে ঘটনা যার বয়ান এসেছে ‘মা’ চলচ্চিত্রের নির্মাতা অরণ্য আনোয়ারের মারফতে।

গত ১০ মার্চ দুপুরে চলছিল ছবিটির শেষ দিনের শুটিং। যেখানে ৭ মাসের এক শিশুর মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করছিলেন পরীমণি। শুটিংয়ের শেষদিন বিদায়বেলায় তার হাতেই পরী তুলে দিলেন তার জীবনের চিরস্মরণীয় চিহ্ন- নাকফুল। যা কিনা তিনি বিয়ের সময় উপহার পেয়েছিলেন স্বামী শরীফুল রাজের কাছ থেকে।

এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশ হচ্ছে। পরী ওই শিশুকে নাকফুল উপহার দিলেও কেউ লিখছেন তিনি নিজের এনগেজমেন্টের আংটি উপহার দিয়েছেন। কেউ বা লিখছেন অন্য কিছু।

তবে পরীমণি বলছেন, সোনার আংটি কিংবা নাকফুল এখানে মুখ্য নয়। এখানে মূল বিষয় হলো ভালোবাসা, মাতৃত্ব, মমতা। সিনেমার চরিত্রে হলেও তিনি ওই শিশুর মায়ায় জড়িয়ে যান। শিশুটি যাতে বড় হয়ে কখনো এই মায়ের কথা স্মরণ করতে পারে সে জন্যই তাকে এই উপহারটি দেন।

পরীমণি বলেন, “ওটা আংটি নয়, ওটা ছিল নাকফুল। যেটা পরে আমি ‘মা’ সিনেমার শুটিং করেছি।”

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে পরীমণি বলেন, ‘আমার বিয়ের সময় রাজ আমাকে দুইটা সোনার নাকফুল দিয়েছিল। একটা আমি বিয়েতে পরেছি। আরেকটা দেখলাম এই সিনেমার (মা) চরিত্রের সঙ্গে যাচ্ছে। তাই ওটা শুটিংয়ে পরলাম। বড় হয়ে বাচ্চাটি যাতে স্মরণ করতে পারে তাই তার মায়ের কাছে আমার করা মা চরিত্রের একটা সুন্দর স্মৃতি রেখে আসলাম। তার মা বলেছে ছেলেটা বড় হলে তার বিয়ের সময় এটা ছেলের বউকে দেবে। ভাবুন, এত বছর এই স্মৃতিটা কত যত্নে থাকবে।’

এই নায়িকা আরও যোগ করেন, ‘আমার এই ইমোশনটাই কেউ বুঝল না। শুধু সোনার রিং, সোনার আংটি নিয়ে লাফাচ্ছে। আসলে সোনার রিং, কিংবা সোনার আংটি বলে কথা নয়। মায়ের নাফকুল, এটা তো বড় ধরনের একটা ইমোশন বাঙালিদের জন্য। আমার মনে হলো, আমি যেহেতু তার মায়ের চরিত্র অভিনয় করেছি আমার একটা চিহ্ন তার মায়ের কাছে থাকুক। তাই ওই মায়ের কাছে নাকফুলটা খুলে দিয়ে এসেছি।’

পরী আরও বলেন, ‘চরিত্রে মা হলেও আমি তো শিশুটির মা হয়েছি। যাতে বড় হয়ে কখনো বলতে পারে তার আরেক মা তাকে এই উপহারটি দিয়েছেন। ব্যাপারটা আসলে এরকম।’

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ‘মা’ ছবির দৃশ্যধারণ হয়েছে গাজীপুরে। ১০ মার্চ শেষ হয়েছে এর কাজ। স্থানীয় এক অটোচালকের ছেলে পরীর সন্তানের ভূমিকায় অভিনয় করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *