এক ব্যাগ মুড়ি নিয়ে রিয়াজকে দেখতে ছুটে এলেন বৃদ্ধা!

অনন্য মামুনের পরিচালনায় ‘রেডিও’ ছবির শুটিং মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের বাহাদুরপুর ঘাটে অবস্থান করছিলেন চিত্রনায়ক রিয়াজ।

ছবির নহবত মাস্টার চরিত্রে অভিনয় করছেন রিয়াজ। আর শুটিংয়ের ফাঁকে এক গ্রামবাসীর কাছ থেকে উপহার পেলেন রিয়াজ।

তার জন্য পলিথিন ব্যাগভর্তি মুড়ি নিয়ে হাজির হন এক বৃদ্ধা। শুধু ওই বৃদ্ধাই নন; ‘রেডিও’ ছবির অভিনয়শিল্পী, কলাকুশলীদের জন্য গ্রামবাসী অনেকেই বরই, কলা, বিভিন্ন ফল নিয়ে আসতেন।

এ কথা জানিয়ে রিয়াজ বলেন, ‘এগুলোই সত্যিকারের ভালোবাসা। প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে শত শত ছোট, বড়, বয়স্ক নারী-পুরুষ শুটিং দেখতে ছুটে আসতেন। সারা দিন রৌদ্রের মধ্যে দাঁড়িয়ে, বসে শুটিং দেখতেন। আমাদের জন্য তাদের কেউ কেউ আবার মুড়ি, গাছের বরই, কলা— এসব নিয়ে আসতেন। চরের মধ্যে কিছু বাড়ি আছে, তাদের বাড়িতেও আমাদের নিয়ে যেতেন, আপ্যায়ন করতেন। একদিন শুটিংয়ে এক বৃদ্ধা এক পলিথিন ব্যাগ মুড়ি নিয়ে আমাকে দেখতে এসেছিলেন। ’

রিয়াজ বলেন, ‘এই ছবিটির কনটেন্টটা নতুন, ভিন্ন। অনেক কষ্ট করে কাজটি করেছি। সেই ১৯৭১ সালের ফ্রেম আনতে লোকেশনটাও ঠিকঠাক ছিল। দুর্গম চরে সকাল ছয়টা থেকে রাত দুইটা পর্যন্ত কাজ করেছি।’

ছবির পরিচালক অনন্য মামুন জানান, এই ছবিটি তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজ হয়ে থাকবে। বলেন, ‘নতুন একটি সাবজেক্টকে ধরে ছবির গল্প। যে গল্পের পটভূমি বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ। গল্পের সঙ্গে লোকেশন মিলে দারুণ একটি কাজ করার সুযোগ পেয়েছি আমরা।’

শুটিং লোকেশনের কথা বলতে গিয়ে পরিচালক জানালেন চরের মধ্যে বিচ্ছিন্ন কিছু গ্রাম। যে গ্রামের টেলিভিশন নেই। নদী পার হয়ে দূরদূরান্তে বাজারে গিয়ে টেলিভিশন দেখেন তারা। বলেন, ‘এমন একটি গ্রাম খুঁজে পেয়েছিলাম কাজটি করার জন্য। ক্যামেরা যে দিকেই ধরি, মনে হয় যেন সেই ১৯৭১ সালের সময়কার চারপাশের পরিবেশ। আমাদের নতুন করে কোনো সেট তৈরি করতে হয়নি।’

গ্রামে টেলিভিশন না থাকলেও নদী পার হয়ে বাজারে গিয়ে টেলিভিশন বাংলা সিনেমা দেখেন বাহাদুরপুর ঘাটসংলগ্ন চরের মানুষেরা। ফলে নায়ক রিয়াজ তাঁদের কাছে বেশ পরিচিত।

পরিচালক বলেন, ‘প্রতিদিনই প্রচুর মানুষ শুটিং দেখতে আসতেন। সারা দিন বসে বসে প্রিয় তারকাকে দেখতেন। শুটিংয়ের শেষ দিন আরও অন্য সব গ্রাম থেকে নৌকা, লঞ্চে নদী পার হয়ে হাজারখানেক মানুষ শুটিং দেখতে জড়ো হয়েছিলেন। মজার ব্যাপার হলো, প্রতিদিন যে এত এত মানুষ আসতেন শুটিং দেখতে, কোনো ঝামেলা করেননি কেউ।’

ছবির গল্পে দেখানো হয়েছে চরের দুর্গম একটি গ্রাম। যে গ্রামে দুটি রেডিও আছে। স্বাধীনতাবিরোধীরা বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ শুনতে দেবে না। এ কারণেই গ্রাম থেকে তারা রেডিও নিয়ে চলে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *