ছোটপর্দার ‘রোমান্স কিং’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। দর্শকদের ভালোবাসা নিয়ে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। বিগত কয়েক বছর ধরেই নিজেকে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন অপূর্ব।
এদিকে গত সেপ্টেম্বরে তৃতীয় বিয়ে করেছেন এই অভিনেতা। পাত্রীর নাম শাম্মা দেওয়ান। তিনি একজন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। বিয়ের পর হানিমুনে যাননি। তবে স্ত্রীর সঙ্গে অবকাশ যাপন করতে ২২ ডিসেম্বর ঢাকা ত্যাগ করেন অপূর্ব।
যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে দীর্ঘ ২ মাস পর দেশে ফিরেছেন তিনি। দুইদিন আগে দেশে ফিরলেও এখনও কোনো শুটিং শুরু করেননি। আগামী সপ্তাহ থেকে আবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়াবেন তিনি। আমেরিকা থেকে ফিরে এই গুণী অভিনেতা কথা বলেছেন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সঙ্গে।
প্রশ্ন: আমেরিকায় কেমন কাটালেন?
অপূর্ব: বেশ ভালো। সেখানে আমার স্ত্রী শাম্মা দেওয়ান থাকে। আর বেশ কিছু বন্ধু-বান্ধব আছে। সবার সঙ্গেই দারুণ সময় কেটেছে। তবে গিয়ে কয়েকদিন অসুস্থ ছিলাম। ওই সময়গুলো ছাড়া আনন্দেই কেটেছে।
প্রশ্ন: বিয়ের পর তো হানিমুন হয়নি। এটা কি হানিমুন ট্রিপ ছিল?
অপূর্ব: না না। সেরকম কিছু না। আবার বলাও যায়। আমার স্ত্রী মার্কিন নাগরিক। তাই যাওয়া। তবে বন্ধুদের সঙ্গেও ভালো সময় কেটেছে। মজার ব্যাপার হলো, ওখানে যাওয়ার পর আমাকে আমার বন্ধুরা মি. বাংলাদেশ নামে ডাকা শুরু করেছিল।
প্রশ্ন: কারণ কী?
অপূর্ব: ওখানে কেউ যখন বাংলাদেশ নিয়ে নেতিবাচক কিছু বলত বা বাজে মন্তব্য করত, সেটা ভালো লাগত না আমার। সাথে সাথে প্রতিবাদ করতাম। এই কারণে সবাই আমাকে ওই নাম দিয়েছিল। তাতে কিন্তু আমি বেশ খুশি। সবসময় দেশকে রিপ্রেজেন্ট করতে চাই আমি। তাই দেশ নিয়ে কেউ কিছু বললে সেটা সহ্য করতে পারি না। এটা আমি তাহসান ভাইয়ের মধ্যে দেখি। উনি যেখানেই যান সবার আগে দেশকে উপস্থাপন করেন।
প্রশ্ন: আপনার স্ত্রী তো আমেরিকার নাগরিক। ভবিষ্যতে আপনিও কি আমেরিকা প্রবাসী হতে যাচ্ছেন?
অপূর্ব: এখনও এসব নিয়ে ভাবছি না। এখানেই সব আছে আমার। ক্যারিয়ার, বন্ধু, আত্মীয়স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী, ভক্ত সবাই। এখানে বিপদে পড়ে যদি আমি কাউকে ডাক দেই, তাহলে অনেকে এগিয়ে আসবেন। কিন্তু ওখানে বিপদে পড়ে ডাকলে কাউকে পাব না। ওখানে সবাই খুব ব্যস্ত। তাছাড়া আমেরিকায় গিয়ে যে লাইফস্টাইল অনুসরণ করব, সেটা তো এখানেই করতে পারছি। তাহলে যাব কেন? তাই এখন এসব নিয়ে ভাবছি না। সত্যি কথা কী, দেশটাকে প্রচণ্ড ভালোবাসি। এটা নতুন করে আবার উপলব্ধি করলাম এবার আমেরিকা গিয়ে। তাই এই দেশের হাওয়া, মাটি, গন্ধ ছাড়তে চাইনা।
প্রশ্ন: এবার একটু অন্য প্রসঙ্গ। এ বছর ভ্যালেন্টাইনে তেমন কোনো কাজ দেখা যায়নি আপনার।
অপূর্ব: এটা সত্য। আসলে এবার তেমন কোনো কাজ করা হয়নি। আমেরিকা গিয়ে প্রায় দুই মাস থাকলাম। আর কিছুদিন হলো, লেভেল কোম্পানির নাটক চ্যানেলগুলো নিচ্ছে না। তাই নাটকের নির্মাণ ও বাজেট নিয়ে একটা সমস্যা চলছিল। আমিও ফিরে আসতে পারছিলাম না। তবে বেশ কয়েকটি নাটকের আগে থেকেই শুটিং করা ছিল। মজা ব্যাপার হচ্ছে, অনেক চ্যানেল কর্তৃপক্ষ আমার ফেরা নিয়ে কনফিউশনে ছিলেন। তাই সেসব নাটক রেখে দিয়েছেন ইদের জন্য।
