কবীর সুমনের গানেই গল্পটা শুরু করা যাক; ‘কতটা পথ পেরোলে তবে পথিক বলা যায়’। শিল্প জগতের কোনো ব্যক্তিকে সব্যসাচী বলার জন্য কতখানি বৈচিত্র্যময় হতে হয়? কতটা বিস্তৃত পরিসরে নিজেকে মেলে ধরতে হয়? এর নির্দিষ্ট মাপকাঠি হয়ত নেই।
কিন্তু যিনি টিভি পর্দায় ফুটিয়েছেন হাসির ফোয়ারা, সিনেমায় দেখিয়েছেন হিংস্রতার অনন্য রূপ, আবার নির্মাণেও দেখিয়েছেন আলাদা নৈপুণ্য। তাকে তো সব্যসাচী বলাই যায়। শিল্প-সংস্কৃতির প্রায় সব শাখাতেই উজ্জ্বল দ্যুতি ছড়ানো সেই মানুষটির নাম আবু তাহের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান। না, এ নামে অবশ্য খুব কম মানুষই তাকে চেনেন। তিনি পরিচিত, জনপ্রিয় এটিএম শামসুজ্জামান নামে।
কেবল অভিনয় কিংবা নির্মাণেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না এটিএম শামসুজ্জামান। তার পরিচয়ের বিরাট জায়গা দখল করে আছে লেখালেখি। শতাধিক সিনেমার কাহিনি ও চিত্রনাট্য লিখেছিলেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে বহু নন্দিত ও সফল সিনেমা।
অভিনয়ের আকাশে ধ্রুবতারার মতো উজ্বল এই কিংবদন্তি চলে গেছেন গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি। দেখতে দেখতে আজ এক বছর হয়ে গেল। কিন্তু মৃত্যুর মাত্র এক বছরেই একুশে পদকপ্রাপ্ত এই অভিনেতাকে ভুলতে বসেছেন তার সহকর্মীরা!
রোববার (২০ ফেব্রুয়ারি) এটিএম শামসুজ্জামানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। এই দিনে প্রয়াত গুণী অভিনেতাকে নিয়ে চলচ্চিত্রের কোনো সংগঠন থেকে বড় কোনো আয়োজনের খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে তার পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, গত এক বছরে সিনেমা-নাটকের কেউ-ই তাদের খবর নেয়নি।
এ প্রসঙ্গে এটিএম শামসুজ্জামানের স্ত্রী রুনি বলেন, ‘৬০ বছর যে মানুষটা কাজ করলো ইন্ডাস্ট্রির জন্য, মৃত্যুর এক বছরে তার পরিবার কেমন আছে-সে খবর কেউ নেয়নি। সিনেমা-নাটকের কেউই না। আজকে পত্রিকাতেও তাকে নিয়ে কোনো লেখা দেখলাম না।’
তিনি আরও জানান, এটিএম শামসুজ্জামানকে নিয়ে সিনেমা কিংবা নাটকের কেউ কোনো আয়োজন করেছেন-এমন কোনো খবর তার কাছে নেই। তবে পারিবারিকভাবে এটিএম শামসুজ্জামানের জন্য কোরআন খতম, এতিমদের খাওয়ানো ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে শিল্পী সমিতির নবনির্বাচিত সহ-সাধারণ সম্পাদক সাইমন সাদিক বলেন, ‘আমি শুটিংয়ে কক্সবাজার আছি, সমিতির পক্ষ থেকে এটিএম শামসুজ্জামান সাহেবকে নিয়ে কোনো আয়োজনের খবর আমার কাছে নেই।’
এটিএম শামসুজ্জামানের পরিবারের খবর নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মাত্রই তো নতুন কমিটি হলো, আশা করছি এখন থেকে নিয়মিত তার পরিবারের খোঁজ-খবর নেবো।’
