ঢাকা- গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি কর্মসূচি পালন করবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বুধবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার বিষয়বস্তু তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপি মহাসচিব।
মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে দেশে প্রথম বারের মতো সকলের গ্রহণযোগ্য এবং অংশীদারত্বমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাফল্য এবং বর্তমান প্রেক্ষিতে পুনরায় তা জনগণের সামনে তুলে ধরার জন্য আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য অনুসন্ধান কমিটির কাছে নাম পাঠানো সম্পর্কে স্পষ্টভাবে বলা হয় যে, বিএনপি মনে করে বর্তমান জনগণের ম্যান্ডেটবিহীন সরকারের অধীনে কোনো অবস্থাতেই নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব নয়।
নির্বাচন কমিশন গঠন ও নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সার্চ কমিটি তামাশা ছাড়া কিছু না। এটার একমাত্র লক্ষ্য হলো জনগণকে দৃষ্টি বিভ্রান্ত করা, ভিন্ন খাতে নিয়ে যাওয়া।
সরকারি দলের নেতারা বলছেন, বিএনপি আড়ালে থেকে নাম পাঠিয়েছে-এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, এই সরকার এত চমৎকার করে মিথ্যা কথা বলতে পারে! অবলীলায় তারা দিনকে রাত-রাতকে দিন করতে পারে। এই ধরনের অপপ্রচার তারা সব সময় চালিয়ে এসেছে। এখন আর এগুলোতে কাজ হচ্ছে না। মানুষ তাদের সমস্ত জারিজুরি বুঝে গেছে এবং তারা জনগণের কাছে সত্যের অপলাপকারী হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
ফখরুল আরও বলেন, ‘ভূতের মুখে রাম নাম একটা কথা আছে, আওয়ামী লীগের মুখে গণতন্ত্রের কথা হচ্ছে সেটাই। যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাসই করে না। যারা গণতন্ত্র কোনোদিন প্র্যাকটিস করেনি, প্র্যাকটিস করার সুযোগ দেয়নি; যখন ক্ষমতায় এসেছে, সমস্ত অধিকারগুলো কেড়ে নিয়েছে। তারা যখন এসব কথা বলে…জনগণ কী বিশ্বাস করে-না করে সেটা সবাই জানে। যে কোনো শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে যারা ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন, যারা দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না, সবাই বলবে, এখন সরকারের হাই টাইম, তাদের চলে যাওয়া উচিত। দেশ ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে তারা। সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।’
