প্রস্তুতি নিচ্ছি, স্বপ্নটাকে বাস্তবায়ন করতে চাই: শাকিব খান

চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডে অংশ নিতে গত ১৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্র গেছেন ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় নায়ক শাকিব খান। ২৫ নভেম্বর দেশে ফেরার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু সেসময় দেশে ফিরেননি তিনি।

ডিসেম্বরে ফেরার কথা ভাবলেও প্রথম সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে আরেকটি অনুষ্ঠানে অতিথি হন তিনি। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য সেখানে তাঁকে সম্মানিত করা হয়। সে অনুষ্ঠানেই শাকিব ঘোষণা দেন, নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের একটি সিনেমার শুটিং তিনি যুক্তরাষ্ট্রে করবেন।

এরপর পেরিয়েছে দুই মাসের বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে কেমন কাটছে শাকিব খানের দিনকাল? শুক্রবার দিবাগত রাতে সেটা জানতে যোগাযোগ করা হয় তাঁর সঙ্গে।

ঘুম থেকে উঠেই শাকিব খানের দিন শুরু হয় কফির মগ হাতে। শরীরের প্রতি বিশেষ যত্নশীল এই অভিনেতা প্রতিদিন নিয়ম করে আট ঘণ্টা ঘুমান। সকালের নাশতা শেষে চলে যান জিমে।

শাকিব খান বলেন, ‘নিয়মিত জিম করা আমার রুটিনের অংশ। কিন্তু নিউইয়র্কে আসার পর প্রথম দেড় মাস খুব অনিয়ম হয়। বছরের প্রথম দিন থেকে আবার জিমে যাওয়া শুরু করি। প্রতিদিন তিন-চার ঘণ্টা জিমেই কেটে যায়। বেশ ভালো লাগে। এরপর বাসায় ফিরে ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে নিই।’

ঢাকায় থাকলে নিজের বাসায় জিম, যখন খুশি জিম করতেন। নিউইয়র্কে সেটা সম্ভব নয়। শাকিব জানালেন, নিউইয়র্কের বাসা থেকে গাড়ি চালিয়ে জিমে যেতে লাগে ১৫ মিনিট।

যুক্তরাষ্ট্রে শুটিং শুরু করবেন কবে? জানা গেল, গত এক মাস সেই সিনেমার প্রি-প্রোডাকশনের কাজে ব্যস্ত শাকিব। প্রতি সপ্তাহে পরিচালক হিমেল আশরাফকে নিয়ে বসছেন। করছেন স্ক্রিপ্টিং আর সংলাপের কাজ। নায়িকা ছাড়া অন্য সব কাস্টিং প্রায় চূড়ান্ত।

শাকিব জানালেন, সব নিয়ম মেনে ঠিকঠাক সিনেমার শুটিং করতে চান। সে কারণেই সময় নিচ্ছেন। শুরুতে ফেব্রুয়ারি মাসেই শুটিং শুরু করতে চেয়েছিলেন পরিচালক। কিন্তু বাংলাদেশ আর আমেরিকায় শুটিং পদ্ধতি এক রকম নয়। শাকিব বলেন, ‘যেভাবে স্বপ্ন দেখেছি, সেভাবেই সেটা বাস্তবায়ন করতে চাই। সুন্দর একটা ছবি বানাব, যা দেখে দেশ-বিদেশের সবাই বলবে, আরে বাহ…।’

আশাবাদী শাকিব বলেন, ‘দেশের বাইরে আমাদের চলচ্চিত্রের একটা বিশাল বাজার আছে। যুক্তরাষ্ট্রে এসে বিষয়টা আরও ভালোভাবে টের পেয়েছি। এখানকার ব্যবসায়ীরাও বাংলাদেশের সিনেমা নিয়ে ভাবছেন। আমার সঙ্গে অনেকের মিটিং হয়েছে। কানাডা থেকেও ব্যবসায়ীদের একটা প্রতিনিধিদল এসেছিল। একাধিকবার মিটিং হয়েছে। আমাকে তাই ভাবতে হচ্ছে, বাংলাদেশের মানুষ যেন আমাদের সিনেমা নিয়ে গর্ব করতে পারে, সেভাবেই আমার সিনেমার শুটিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

বাংলাদেশকে ভীষণ মিস করছেন শাকিব। জানালেন, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে তাঁর দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে নতুন ছবির বেশ খানিকটা শুটিং সেরে নেবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *