এবারের বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন সারাদেশের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। এর অন্যতম একটি কারণ একুশে পদকজয়ী অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন সভাপতি হয়েছেন।
অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে নিপুণ ও জায়েদ খানের প্রতিযোগিতা। এ পদে জটিলতা গিয়ে পৌঁছেছে আদালতে৷ বর্তমানে আদালত পদটিতে স্থগিতাদেশ দিয়েছেন। আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি শুনানি শেষে সিদ্ধান্ত আসবে কে হবেন শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক।
তবে এরই মধ্যে মিশা-জায়েদ প্যানেল থেকে কার্যনির্বাহী পদে জয়ী রোজিনা নিজেই তার পদত্যাগের কথা নিশ্চিত করেছেন।
শোনা যাচ্ছে, মিশা-জায়েদ প্যানেল থেকে সহসভাপতি পদে জয়ী রুবেলও পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এমনও শোনা যাচ্ছে, মিশা-জায়েদ প্যানেল থেকে জয়ী ১১ জনই পদত্যাগ করবেন।
বিষয়টির সত্যতা জানতে যোগাযোগ করা হয় মিশা-জায়েদ প্যানেল থেকে সহসভাপতি পদে জয়ী ডিপজলের সঙ্গে।
তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘পদত্যাগ তো সব আপনারাই (সাংবাদিক) করিয়ে দিচ্ছেন। রুবেল এখনও পদত্যাগ করেনি; রোজিনাও করেনি।’
তাহলে রোজিনা-রুবেল বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যা বলছেন সব কি ভুয়া- জানতে চাইলে ডিপজল বলেন, ‘এসব নিয়ে এখনও আমাদের কথা হয়নি, তবে হবে। আগামীকাল (রোববার) আমরা সবাই মিলে মিটিং করব। সেখান থেকেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে, আমরা কমিটিতে যাব নাকি যাব না।’
রোববার বিকেলের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত আসবে বলে জানান ডিপজল।
উল্লেখ্য, শিল্পী সমিতি নিয়ে এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ সম্পাদক পদটি ঘিরে। এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন জায়েদ খান ও নায়িকা নিপুণ। প্রাথমিক ফলাফলে জায়েদ বিজয়ী হন। এরপর ভোট পুনর্গননার আবেদন করেন নায়িকা। দ্বিতীয়বার গণনায়ও জায়েদের জয় হয়।
পরবর্তীতে জায়েদ খানের বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলেন নিপুণ। প্রকাশ্যে আনেন কিছু প্রমাণও। এরই প্রেক্ষিতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশক্রমে বিষয়টির সুরাহা করে নির্বাচনের আপিল বোর্ড। তারা তদন্ত শেষে জায়েদ খানের প্রার্থীতা বাতিল করে এবং নিপুণকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করে।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে রিট করেন জায়েদ। তার রিটের বিরুদ্ধে আবার আপিল করেন নিপুণ। এভাবে আবেদন-পাল্টা আবেদনের মাধ্যমে একটি পদ নিয়ে লড়াইয়ের মাত্রা চরমে পৌঁছেছে। ১৩ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
