কাঞ্চন ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলার পরই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেই: রোজিনা

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২২-২৪ মেয়াদে নির্বাচিত কার্যকরী সদস্য অভিনেত্রী রোজিনা ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে শপথ গ্রহণের আগেই পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার এক ইমেইলে সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি বরাবর তিনি পদত্যাগপত্র দিয়েছেন।

পদত্যাগপত্রে রোজিনা লিখেছেন, ‘আমার ব্যক্তিগত কাজের ব্যস্ততার জন্য সমিতির কার্যকরী পরিষদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব না বিধায় উক্ত পদ হইতে আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করিলাম।’

তবে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সূত্রগুলো জানিয়েছে, ই-মেইলের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র পাঠানোর কথা বললেও তারা এমন কিছু পায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রোজিনা বলেন, গতকাল শিল্পী সমিতির কার্যালয়ে পদত্যাগপত্রটি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সমিতি তালাবদ্ধ থাকার কারণে সমিতির মেইলেও এটি পাঠানো হয়েছে।

নির্বাচিত হওয়ার দুই সপ্তাহের মাথায় কেন তিনি পদত্যাগ করছেন? এই প্রশ্নের জবাবে রোজিনা বলেন, ‘আমি সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ঠিকঠাক সময় দিতে পারব না। গত পরশু কাঞ্চন ভাইয়ের সঙ্গে ফোনে কথা হচ্ছিল, তখন কাঞ্চন ভাই আমাকে বলছিলেন সমিতির তিনটি মিটিংয়ে কমিটির কেউ টানা অনুপস্থিত থাকলে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। এটি গঠনতন্ত্রে আছে। ভেবে দেখলাম, আমি ঠিকঠাক সময় দিতে পারব না। কারণ, ঢাকা–লন্ডন মিলে আমার বাড়ি দুটি। দেখা গেল, আমি লন্ডনে থাকলাম, পরপর তিনটি মিটিং পড়ে গেল, আমি থাকতে পারলাম না। আমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলো। তার চেয়ে সরে আসা ভালো। আর সমিতিতে থাকাটা জরুরি না।’

এর আগের কমিটিতেও আপনি কার্যকরী পরিষদের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। তখন কোনো সমস্যা হয়নি? রোজিনা বলেন, ‘তখনো আমি ওই কমিটিকে বলেছিলাম, ঠিকমতো সময় দিতে পারব না। তারা সেটা মেনে নিয়েছে। তাই আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে রাজি হয়েছিলাম। তাদের কথা ছিল, কমিটিতে জ্যেষ্ঠ তারকা শিল্পীরা থাকলে ভালো হয়।’

সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে জায়েদ খান ও নিপুণের মধ্যে জটিলতা তৈরির কারণে কি আপনি পদত্যাগ করছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে রোজিনা বলেন, ‘একদমই না। এটা আদালতের ব্যাপার। এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই। আমি শিল্পী, শিল্পীর সম্মানটুকুই আমার চাওয়া। আর পদত্যাগ করে সিনেমা থেকে চলে যাচ্ছি না। সিনেমার উন্নয়নে সমিতি ডাকলেই আমি ছুটে আসব।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, সবারই ব্যক্তি স্বাধীনতা আছে। সমিতি থেকে তিনি পদত্যাগ করবেন, নাকি থাকবেন, সেটা তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার।

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে মিশা-জায়েদ প্যানেল থেকে নির্বাচন করেন অভিনেত্রী রোজিনা। তিনি ১৮৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। গেল ৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিতদের একাংশ শপথগ্রহণ করলেও সেদিন শপথ নেননি এ অভিনেত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *