চাবি ছাড়াই তালা খুলে মোটরসাইকেল স্টার্ট দিতে পারেন তারা। আর এতে সময় লাগে মাত্র ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড। আর এ বিদ্যা রপ্ত করেছেন ইউটিউব দেখে। মোটরসাইকেল চুরিতে সিদ্ধহস্ত এমন আট আন্তঃজেলা চোরকে গ্রেপ্তার করেছে চট্রগ্রাম গোয়েন্দা পুলিশ।
গত বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নগরের খুলশী, ডবলমুরিং ও ফেনী জেলার সোনাগাজী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আটজন হলেন-মো. মুন্না, মোহাম্মদ ফয়সাল, মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন, মো. শহীদুল ইসলাম, মো. সোহেল ওরফে ইকবাল, মো. মিজান, মোবারক হোসেন ও আবদুর রহমান নোবেল। তাদের কাছ থেকে পাঁচটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, বিভিন্ন জেলা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে তারা। একটি গাড়ি চুরি করতে তাদের সর্বোচ্চ সময় লাগে ১৫ সেকেন্ড। এই সময়ে মোটরসাইকেলটি স্টার্ট দিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায় তারা। সেখানে তারা নাম্বার প্লেট ও চ্যাসিস নাম্বার পাল্টে ফেলে। এরপর অন্য জেলায় বিক্রি করে দেয়। চোরাই মোটরসাইকেলগুলো বিক্রি করতে তাদের আলাদা সিন্ডিকেট রয়েছে।
চট্টগ্রাম নগর থেকে চুরি করা মোটর সাইকেল বিক্রি হয় সন্দ্বীপ, নোয়াখালী, ফেনী ও পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। যেখানে পুলিশের তেমন তৎপরতা নেই।
পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে চুরি করা মোটরসাইকেল একস্থান থেকে অন্যস্থানে নিয়ে যেতে মোটরসাইকেলে প্রেস স্টিকার ব্যবহার করে তারা। চাবি ছাড়া তালা খুলে মোটরসাইকেল স্টার্ট দেওয়ার এই বিদ্যা কেউ রপ্ত করেছেন ইউটিউব দেখে। কেউ আবার মেকানিকদের কাছ থেকে।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার মুহাম্মদ আলী হোসেন বলেন, ‘কয়েক মাসে অন্তত অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেল চুরি করেছে চক্রটি। শুরুতে একজনের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এরপর তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী বাকি চোরদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে পাঁচটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এক জেলা থেকে চুরি করা মোটরসাইকেল অন্য জেলায় বিক্রি করে তারা। চট্টগ্রামের আশপাশের প্রতিটি জেলায় তাদের লোক রয়েছে। তারা একটি সংঘবদ্ধ চক্র।’
