জনপ্রিয় অভিনেতা ও প্রযোজক মনোয়ার হোসেন ডিপজল। বছরজুড়েই তিনি ব্যস্ত থাকেন নতুন ছবির কাজে৷ এদিকে সদ্য শেষ হওয়া চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সহ সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
যদিও এবারের নির্বাচন নিয়ে অনেক জলঘোলা হচ্ছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।
বিষয়টিকে কিভাবে দেখছেন? ডিপজল বলেন, ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ নেই। তাই শিল্পী সমিতি নিয়ে এত মাতামাতি। অল্প সংখ্যক সিনেমা এখন হচ্ছে। শিল্পীদের হাতে কাজ নেই।
ফলে তাদের সব মনযোগ সমিতির দিকে। যদি একের পর এক সিনেমা নির্মিত হতো, তাহলে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না। আগে তো শিল্পী সমিতি থাকলেও অবস্থা এমন ছিলো না? উত্তরে ডিপজল বলেন, একদমই না। কাজ নিয়ে এত ব্যস্ত থাকতাম অন্য কিছু করার সময় হিতো না। এমনও সময় গেছে, কাজের ব্যস্ততার কারণে অনেক সদস্য সমিতিতে যাওয়ারও সময় পেত না। সমিতি সমিতির মতো চলত। সমিতির মূল উদ্দেশ্য কি বলে মনে করেন? এ অভিনেতা বলেন, কাজ কাজের জায়গায়, সমিতি সমিতির জায়গায়।
সমিতি করা হয় যাতে সবার সাথে সময়ে সময়ে দেখা-সাক্ষাৎ হয়, খোঁজ-খবর নেয়া যায়, সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো যায়। এটা একটি পরিবার। আমি সারাবছরই সিনেমার শুটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকি। সবসময় সমিতিতে যাওয়ার সময় হয় না। কিন্ত কমিটিতে থাকি। যারা সমিতিতে সারাক্ষণ সময় দেয়, তাদের সহযোগিতা করার জন্যই থাকি। আমার পক্ষে সার্বক্ষণিক সময় দেয়া সম্ভব নয়।
সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে অনেক আলোচনা ও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আপনি কি মনে করেন? ডিপজল বলেন, নিজের পরিবারে অনেক সমস্যা থাকতে পারে। তবে ঘরের সমস্যার কথা বাইরে নিয়ে আসা উচিৎ নয়। এখন সমিতি নিয়ে যেসব আলোচনা, কাদা ছোড়াছুড়ি হচ্ছে, এতে কি আমাদের শিল্পীদের সম্মান বাড়ছে? না বাড়ছে না। শিল্পীদের আচার-আচরণ এমন হওয়া উচিৎ যাতে সুনাম ক্ষুন্ন না হয়।
ডিপজল আরো বলেন, সমিতির প্রত্যেক সদস্য আমার সহকর্মী, আমার পরিবারের সদস্য। সিনিয়র সদস্য হিসেবে তাদের খোঁজ-খবর নেয়া আমার দায়িত্ব। আমার এই দায়িত্ববোধ থেকে যতটা সম্ভব তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করি। সমিতির যেকোনো সদস্যের সমস্যায় আমি পাশে আছি, থাকব। তবে শিল্পীদের পাশে থাকতে হলে নেতৃত্ব দিতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। সদিচ্ছা থাকলে, নেতৃত্বের বাইরেও সদস্যদের পাশে দাঁড়ানো যায়। নেতৃত্ব নিয়ে কোন্দল ও কাদা ছোড়াছোড়ি কোনোভাবেই কাম্য নয়।
আপনার কাজের কি খবর? এ অভিনেতা বলেন, আমি তো আমার প্রযোজনায় একের পর এক ছবি করছি। শুটিং নিয়ে খুব ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। আমার বেশ কিছু ছবির কাজ শেষ,মুক্তির অপেক্ষায় আছে৷ নিজের প্রযোজনার বাইরেও মনের মতো গল্প ও চরিত্র পেলে কাজ করছি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২২-২৪ মেয়াদের নির্বাচনের প্রাথমিক ফলে সাধারণ সম্পাদক পদে জায়েদ খানকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তবে তার বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে ভোট কেনাসহ নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অভিযোগ আনলে ৫ ফেব্রুয়ারি সেই প্রেক্ষিতে আপিল বোর্ড জায়েদের প্রার্থিতা বাতিল করে।
পরে নির্বাচনের আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী চিত্রনায়িকা নিপুণকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই বিষয়টি ‘বেআইনি’ বলে দাবি করে আসছেন জায়েদ খান।
গত রোববার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে ইলিয়াস কাঞ্চন ও নিপুণ আক্তারের নেতৃত্বে নতুন কমিটির একাংশ শপথ গ্রহণ করে। পরে শিল্পী সমিতির কার্যালয়ে গিয়ে নিজ নিজ পদের চেয়ারে বসেন তারা। তাদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন শিল্পী সমিতির সদস্যরা।
তবে গতকাল (সোমবার) জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের আপিল বোর্ডের দেওয়া সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে এক সপ্তাহের রুল জারি করেছেন আদালত।
এ আদেশের ফলে রুল নিষ্পত্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত জায়েদ খানই চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক থাকবেন।
এদিকে চিত্রনায়ক জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের আপিল বোর্ডের দেওয়া সিদ্ধান্ত স্থগিত করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তার।
মঙ্গলবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) নিপুণের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের চেম্বার জজ আদালতে এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে।
