শাহরুখ খানের পাশে দাঁড়িয়ে সমালোচকদের ধুয়ে দিলেন ঊর্মিলা

‘মানুষ মাত্রই রাজনৈতিক প্রাণী’ মনীষীদের এই উক্তি স্মরণে রেখে প্রশ্ন করা যায়- এই রাজনীতির জন্য মানুষ কতটা নিচে নামতে পারে? এমনই এক নোংরা রাজনীতির চর্চা দেখে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন একসময়ের বলিউড স্টার ঊর্মিলা।

ঘটনার শুরু রোববার সন্ধ্যায় শিবাজী পার্কে। এদিন বলিউডের অনেকেই এসেছিলেন লতা মঙ্গেশকরকে শেষ বিদায় জানাতে। এসেছিলেন ‘কিং খান’ খ্যাত বলিউডের সুপারস্টার শাহরুখ খান। তিনি এসময় মুসলিম রীতিতে দুই হাত তুলে দোয়া পড়েন। এরপর ডান হাত দিয়ে মাক্স নামিয়ে ফুঁ দেন।

লতা মঙ্গেশকরের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছিল। শাহরুখের বিষয়টি দেখে বিজেপির নেতা অরুণ যাদব এক টুইট বার্তায় প্রশ্ন করেন- শাহরুখ খান লতা মঙ্গেশকরকে অসম্মান করলেন না তো? তার ইঙ্গিত পরিষ্কার। অর্থাৎ তিনি বোঝাতে চাইছেন শাহরুখ খান হয়তো থুতু ছিটিয়েছেন। অরুণ যাদবের এই টুইটের পর ক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে নেট দুনিয়া। এক পক্ষ যেমন অরুণ যাদবের সাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, তেমনি অরুণ যাদবের স্বপক্ষে কথা বলার লোকও কম নেই।

আর তাতেই চটেছেন ঊর্মিলা। এক টুইট বার্তায় তিনি সমাজের অবক্ষয় নিয়ে বিস্মিত কণ্ঠে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, আমাদের সমাজে এতোখানি অবক্ষয় হয়েছে যে আজকাল প্রার্থনাকেও আমরা থুতু ভেবে ভুল করছি। আর এমন অভিযোগ যাকে নিয়ে উঠছে সেই মানুষটি এতগুলো আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। রাজনীতি এতটা নিচে নেমে গেছে দেখে দুঃখ হয়।

সিংহভাগ মানুষই অরুণ যাদবের টুইট উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে করেন। দোয়া প্রার্থনার পর ফুঁ দেওয়া মুসলিম ধর্মীয় রীতি। এতে অশুভ কোনো কিছু দূরে থাকবে বলে মনে করা হয়। রেওয়াজ মেনে শাহরুখ খান এই কাজটি করেছেন। বিষয়টি জেনেও যারা শুধুমাত্র রাজনীতির স্বার্থে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাহরুখ খানকে তুলোধোনা করছেন ঊর্মিলা তাদেরকেও একহাত নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ১৯২৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতের মধ্যপ্রদেশের এক মারাঠি পরিবারে জন্ম নেন লতা মঙ্গেশকর। বাবার হাত ধরে গান ও অভিনয়ের জগতে প্রবেশ করেন তিনি। ১৩-১৪ বছর বয়সে প্রথম গান গেয়েছিলেন মারাঠি সিনেমায়। হিন্দিতে প্রথম প্লেব্যাক করেন ‘মজবুর’ সিনেমায়। লতার সুরেলা কণ্ঠ সিনেমা ও গানে প্রাণ ঢেলে দিতো। নক্ষত্রপতনে তাই শোকস্তব্ধ দুনিয়া।

২৭ দিন ধরে করোনা, নিউমোনিয়া আর বার্ধক্যজনিত জটিলতার সঙ্গে লড়াই করেছেন লতা মঙ্গেশকর। ৯ জানুয়ারি তার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে। সেখানে অবস্থার অনেকটাই উন্নতি হয়েছিল লতার। ৩০ জানুয়ারি তার করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। ভেন্টিলেশন থেকে বের করেও নিয়ে আসা হয় সুরসম্রাজ্ঞীকে। কিন্তু দুদিন আগে পুনরায় তার অবস্থার অবনতি হয়। অবশেষে রোববার সকালে চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *