বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনকে ঘিরে নাটকীয়তা যেন থামছেই না। আজ (সোমবার) জায়েদ খানের প্রার্থিতা বাতিল করে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের আপিল বোর্ডের দেওয়া সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে এক সপ্তাহের রুল জারি করেছেন আদালত।
আদালতের দেওয়া এই রায়ে শুকরিয়া আদায় করেছেন জায়েদ খান। জায়েদ খান বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আদালতে ন্যায়বিচার পেয়েছি। আবারো প্রমাণিত হলো সত্যের জয় হয়। হাইকোর্টে আমি বিচার পেয়েছি। সত্যের জয় কেউ আটকাতে পারেন না। আমার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ ছিল সব মিথ্যা। আমি অধিকার ফিরে পেয়েছি।’
এদিকে জায়েদ খানের সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল থাকা নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু।
তিনি বলেন, এই একটি মাত্র লোক যে পুরো শিল্পী সমিতিটাকে শেষ করে দিয়েছে। এককভাবে প্রভাব বিস্তার করে আসছে এই লোকটি। জায়েদ যদি তার পদে বহাল থাকে তাহলে এফডিসিতে আবার অশান্তি শুরু হবে। তার সাথে কাজ করতে ইচ্ছুক না কেউই। আমি মনে করি তার মত লোকের এখানে বসার যোগ্যতা নাই।
খোরশেদ আলম খসরু বলেন, প্রথম থেকে এই যুদ্ধটা ছিল এফডিসি কেন্দ্রিক, এক নায়েক তন্ত্রের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্রের জায়গাতে আসার একটি যুদ্ধ ছিল। এখন এই ঘটনাটি এমন ভাবে ছড়িয়েছে যা, এফডিসি থেকে বাংলাদেশ এরপর বিশ্বে বিতর্কিত হয়েছে। সবার আশা ছিল, ইলিয়াস কাঞ্চন ও নিপুণ প্যানেল বিজয়ী হবে। এই এক নায়েক তন্ত্রের বিদায় ঘটবে এমনটাই ভেবেছিল সকলে। জায়েদ খান এতটাই ক্ষমতাশীল, যার সব খানে প্রভাব রয়েছে। ফাইনালি নিপুণের অভিযোগের ভিত্তিতে আপিল বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একটি মাত্র লোক, জায়েদ খানের জন্য ৪ বছর ধরে এই এফডিসিতে অশান্ত বিরাজ করছে। তার অপছন্দের শিল্পীদের এফডিসিতে ঢুকতে দেয়া হয়না।
খসরু বলেন, আপনারা জানেন, পপির মত একজন শিল্পীকে সদস্য পত বাতিলের চিঠি দিয়েছে। ইচ্ছে করলেই একজন পপি তৈরি করা যায় না।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জানুয়ারি এফডিসিতে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের এই নির্বাচন ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। ভোটের আগেই দুপক্ষের কাদা ছোড়াছুড়ি হয়। ভোটগ্রহণের পরদিন ভোরে ফল ঘোষণা করে সমিতির নির্বাচন কমিশন।
২০২২-২৪ কার্যকরী পরিষদের এ নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হন ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মিশা সওদাগরকে হারান ৪৩ ভোটে।
সাধারণ সম্পাদক পদে দুটি প্যানেল থেকে লড়াই করেন জায়েদ খান ও নিপুণ। জায়েদ খান ১৭৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আর নিপুণের পক্ষে ভোট পড়ে ১৬৩টি।
ভোটে সভাপতি পদ নিয়ে বিতর্ক না থাকলেও জায়েদ খানের সাধারণ সম্পাদকের পদ নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। ভোটের সময় নিপুণ তার বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ আনেন। পরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চনকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে একই অভিযোগ করেন তিনি।
ওই সংবাদ সম্মেলনে ভোট বাতিল দাবি করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার পীরজাদা শহিদুল হারুনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনেন তিনি। তার কাছে পীরজাদা হারুন ভোটের দিন চুমু চেয়েছিলেন বলে দাবি করেন নিপুণ। অবশ্য হারুন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
পরে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত জায়েদ খান ও কার্যকরী পরিষদ সদস্য পদে নির্বাচিত চুন্নুর প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন করা করেন পরাজিত প্রার্থী নিপুণ।
এরপর প্রার্থিতা বাতিলের অভিযোগের দিকনির্দেশনা চেয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠান চলচ্চিত্র সমিতির নির্বাচনের আপিল বোর্ডের প্রধান সোহানুর রহমান সোহান।
আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যানকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বলে মন্ত্রণালয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এফডিসিতে আসেন নিপুণ, আপিল বোর্ডের সদস্য সোহানুর রহমান সোহানসহ অনেকে।
এফডিসির বৈঠকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় জায়েদের প্রার্থিতা বাতিল করে তার পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিপুণকে জয়ী ঘোষণার সিদ্ধান্ত আসে। সন্ধ্যায় বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনে জানান সোহানুর রহমান সোহান।
এর পরদিন রোববার শপথ গ্রহণ করেন ইলিয়াস কাঞ্চন-নিপুণসহ নির্বাচিত কয়েকজন। ইলিয়াস কাঞ্চনকে শপথ পড়ান নির্বাচনে সভাপতি পদে হেরে যাওয়া মিশা সওদাগর।
এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান জায়েদ খান। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার হাইকোর্টে রিট করেন তিনি।
