এফডিসিতে নিপুণ, জায়েদ খানের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ

সদ্য অনুষ্ঠিত শিল্পী সমিতির নির্বাচনে ‘সাধারণ সম্পাদক’ পদটি নিয়ে শঙ্কা যেন কাটছেই না। ‘ভোট কেনার’ অভিযোগ আনা হয় নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানের বিরুদ্ধে। এছাড়াও বেশকিছু অভিযোগে এই পদ বাতিলের আবেদন করেন পরাজিত প্রার্থী নিপুণ আক্তার। এই পদে পুনরায় নির্বাচনও দাবি করেন এই অভিনেত্রী।

নিপুণের আবেদনের প্রেক্ষিতে জায়েদ খানের পদ বাতিল হবে নাকি তিনিই দায়িত্বে থাকবেন- সে বিষয়ে আজ শনিবার বিকেলে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ি সিদ্ধান্ত জানাতে এফডিসিতে অবস্থান করছে শিল্পী সমিতির আপিল বোর্ড।

যেখানে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছিলো অভিযোগকারী নিপুণ, অভিযুক্ত জায়েদ খান, চুন্নু, সমিতির নতুন সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন ও দুই নির্বাচন কমিশনারকে। তবে অভিযোগকারী নিপুণকে আপিল বোর্ডের সভায় উপস্থিত থাকতে দেখা গেলেও পাওয়া যায়নি জায়েদ খান কিংবা চুন্নুকে।

এদিকে মিটিং শুরুর দেড় ঘণ্টা আগে থেকেই এফডিসিতে উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে। চলছে জায়েদ খানের বিপক্ষে বিক্ষোভ মিছিল।

মিশা-জায়েদের আমলে ভোটাধিকার হারানো শিল্পীরা আজ বিকেল ৩টা থেকে এফডিসিতে অবস্থান নিয়েছেন। তারা দলবদ্ধ হয়ে, কেউ খালি গায়ে আল্পনা এঁকে তাদের অধিকার হরণ করায় জায়েদের বিচার দাবি করছেন। এসময় ‘বিচার চাই, বিচার চাই, জায়েদ খানের বিচার চাই’ দাবিতে স্লোগান দেন তারা।

এ বিষয়ে নৃত্যশিল্পী রতন বলেন, ‘আমাদের সাথে অন্যায় করেছে জায়েদ। ২০ বছর ধরে এফডিসিতে আছি। প্রায় ১০০টি সিনেমায় কাজ করেছি। আমার মতো শিল্পীকেও সে বঞ্চিত করেছে। আমি ওর বিচার চাই। ওকে আমি অভিশাপ দিচ্ছি।’

এদিকে মিটিংয়ের এক ঘণ্টা আগেও খবর পাওয়া যায় শিল্পী সমিতির কার্যালয় তালা মারা। দুজন পিয়নের কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের মুঠোফোনও বন্ধ।

এ প্রসঙ্গে জায়েদ খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমে বলেন, ‘আজ সরস্বতী পূজা। এমনিতেই সমিতি বন্ধ। আজ পিয়নদের ছুটি। তাই হয়তো তাদের পাওয়া যাচ্ছে না।’

উল্লেখ্য, চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির এই নির্বাচনে জায়েদ খানের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন নায়িকা নিপুণ। তিনি মাত্র ১৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। তবে ভোটের পর নিপুণ দাবি করেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। জায়েদ টাকা দিয়ে ভোট কিনেছেন। এছাড়া নির্বাচনে জেতার জন্য অপকৌশল অবলম্বন করেছেন বলেও অভিযোগ তুলেছেন নিপুণ। সেই অভিযোগেরই সুরাহা হওয়ার কথা আজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *