ঢাকা- আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির দ্বিতীয় লকারে মিলেছে দুই হাজার ৫৩০ টাকা। এছাড়া মিলেছে ঢাকা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকের ইস্যুকৃত অসংখ্য চেক। এসব চেকে সই রয়েছে ইভ্যালির শীর্ষ কর্মকর্তাদের।
এছাড়া পাওয়া গেছে ট্রেড গাইডলাইন বুক, ইভ্যালির খামে রাখা খালি ভাউচারসহ অপ্রয়োজনীয় নানা কাগজ।
আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটির দ্বিতীয় লকার ভেঙে প্রথম লকারের মতো কোনো মূল্যবান সম্পদ বা অর্থ পায়নি ইভ্যালির পরিচালনায় গঠন করা বোর্ড।
আরও পড়ুন-
পাসওয়ার্ড দেয়নি রাসেল, ভাঙা হচ্ছে ইভ্যালির লকার
সরব রিয়াজের নীরব পরাজয়ের কারণ কি?
ইভ্যালির ধানমন্ডি কার্যালয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে সোমবার বেলা ৩টায় দুটি লকার ভাঙার কাজ শুরু করে বোর্ডের পরিচালক ও সদস্যরা।
প্রথম লকার ভাঙতে সময় লাগে ৪৫ মিনিট। পরে লকারের ভেতর পাওয়া যায় সিটি ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংকের বেশ কয়েকটি ব্লাংক চেক, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও বাচ্চাদের পড়ার বই। লকারে কোনো ধরনের অর্থ পায়নি বোর্ড।
সোমবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে ইভ্যালির ধানমন্ডি কার্যালয়ে যান জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। এরপর বিকেল ৩টার দিকে ইভ্যালির কার্যালয় থেকে লকারগুলো বের করা হয়।
সেখানে উপস্থিত আছেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ও ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসফিয়া সিরাত।
অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক জানান, গত বছরের ২৩ নভেম্বর কারাগারে থাকা ইভ্যালির সিইও মো. রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনকে ইভ্যালির ধানমন্ডির অফিসের লকারগুলোর ‘কম্বিনেশন নম্বর’ দেওয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এজন্য আদালতের নিযুক্ত ইভ্যালির নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা তার মনোনীত প্রতিনিধিকে কারাগারে এ দম্পতির সঙ্গে দেখা করার ব্যবস্থা করতে আইজি প্রিজন্সকে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
তিনি আরও জানান, বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের কোম্পানি কোর্টের ওই আদেশের পরও লকার দুটির পাসওয়ার্ড পায়নি কমিটি। যে কারণে লকার ভাঙার সিদ্ধান্ত হয়।
পরে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন মানিক সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে একটি লকার ভেঙে বেশকিছু চেক বই পেয়েছি। তবে আমরা হতাশ, কারণ এসব চেক বইয়ের এখন আর কোনও ভ্যালিডিটি নেই। আরও একটি লকার কাটা হবে, পরে জানা যাবে ওই লকারে কী আছে।’
উল্লেখ্য, প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইভ্যালির নাম দেশজুড়ে আলোচিত-সমালোচিত। প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইতোমধ্যে ইভ্যালির সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও তার স্ত্রী ইভ্যালির সাবেক চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে রাসেল ও শামীমাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে তারা কারাগারে আছেন।
অন্য সংবাদ-
