বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ভোটে নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করা পীরজাদা হারুনের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন হিরো আলম।
হিরো আলমের অভিযোগ, গত ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনের দিন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির সদস্য হিরো আলমকে এফডিসির ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এতে তার সম্মানহানি ঘটেছে দাবি করে নির্বাচন কমিশনার পীরজাদা শহীদুল হারুনের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করবেন হিরো আশরাফুল আলম।
রোববার সংবাদমাধ্যমকে হিরো আলম বলেন, নির্বাচন কমিশনার পীরজাদা হারুনের জন্যই ভোটের দিন পরিচালক, প্রযোজকদের এফডিসিতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তার কারণেই আজ আমাদের নিজেদের মধ্যে কলহ তৈরি হয়েছে। তার মতো মানুষ এফডিসিতে থাকলে চলচ্চিত্রের ক্ষতি ছাড়া লাভ হবে না। তার এফডিসিতে নয়, জেলখানায় থাকা উচিত। ভোটের দিন আমার সঙ্গে যা ঘটেছে তাতে আমার সম্মানহানি হয়েছে। আমি নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করব।
এদিকে রোববার সন্ধ্যায় তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে হিরো আলম লেখেন, নির্বাচনের দিন অনেক সাংবাদিক ভাইসহ আমাকেও অনেক কষ্ট দিয়েছেন, অসম্মান করেছেন ওই পীরজাদা হারুন। আমি তার নামে মামলা করব। করতে চাই …।
উল্লখ্য, নির্বাচনের দিন ১৭টি সংগঠনের সদস্যদের এফডিসিতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এ কারণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অভিনেতা পীরজাদা শহীদুল হারুনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ১৮ সংগঠন।
এদিকে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করা পীরজাদা হারুন ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জায়েদ খান একসঙ্গে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন নিপুণ।
এখানেই শেষ নয়। অনেকগুলো অভিযোগ মধ্যে একটি অভিযোগে নিপুণ বলেন, নির্বাচন কমিশনার পীরজাদা হারুন ভোটের দিন সকালে আমার কাছে দুইটা চুমু চেয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার এফডিসিতে অনুষ্ঠিত হয় শিল্পী সমিতির ১৭তম নির্বাচন। ভোটের ফল প্রকাশ করা হয় শনিবার ভোরে। ফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার পীরজাদা শহীদুল হারুন। এবারের নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন যথাক্রমে ইলিয়াস কাঞ্চন ও জায়েদ খান।
ইলিয়াস কাঞ্চন ও জায়েদ খান ভোট পান যথাক্রমে ১৯১টি ও ১৭৬টি। তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সভাপতি পদে মিশা সওদাগর ১৪৮টি এবং নিপুন ১৬৩টি ভোট পান।
এছাড়া সহ-সভাপতি পদে ডিপজল ও রুবেল, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে সাইমন সাদিক জয়ী হয়েছেন। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে অভিনেত্রী শাহানূর, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে মামনুন ইমন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে জয় চৌধুরী, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক পদে আরমান নির্বাচিত হয়েছেন।
কার্যকরী সদস্য পদে জয়ী হয়েছেন, মিশা-জায়েদ প্যানেল থেকে অঞ্জনা, রোজিনা, অরুণা বিশ্বাস, সুচরিতা, আলীরাজ, মৌসুমী, চুন্নু এবং কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেলের ফেরদৌস, কেয়া, জেসমিন ও অমিত হাসান।
