কল্পনাও করিনি দেশের মানুষ আমাকে এতো ভালোবাসে: ইলিয়াস কাঞ্চন

দীর্ঘ ৩২ বছর পর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দায়িত্ব কাঁধে নিলেন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) খল অভিনেতা মিশা সওদাগরকে ৪৩ ভোটে হারিয়ে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) হয়ে গেল শিল্পী সমিতির ২০২২-২৪ মেয়াদের নির্বাচন। সেখানে সভাপতি পদে ইলিয়াস কাঞ্চন পেয়েছেন ১৯১ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মিশা সওদাগর পেয়েছেন ১৪৮ ভোট।

এর আগে, ১৯৮৯ সালে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন। সে বার তার প্যানেল থেকে সভাপতি হয়েছিলেন খল অভিনেতা আহমেদ শরীফ। এরপর দীর্ঘ ৩২ বছর আর কখনও শিল্পী সমিতির নির্বাচনে প্রার্থী হননি তিনি।

নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর শনিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকালে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি।

এসময় তিনি বলেন, আমি আগেই বলেছিলাম যদি জিতে আসি প্রথমেই সাংবাদিকদের ধন্যবাদ দেবো। তাই আজ প্রথমেই সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানাই। এরপর যারা জয়ী হয়েছেন তাদের ধন্যবাদ, যারা পরাজিত হয়েছেন সকলকে ধন্যবাদ। আর বিশেষ করে ধন্যবাদ ও ভালোবাসা দেশের মানুষকে। আমি কল্পনাও করতে পারিনি দেশের মানুষ আমাকে এতো ভালোবাসেন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে সেটা আবার জানতে পারলাম। তাদের আমার হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে অনেক অনেক ভালোবাসা। কথা দিচ্ছি, যতদিন বাঁচি দেশের মানুষের জন্য, দেশের জন্য ও চলচ্চিত্রের জন্য কিছু করে যাবো ইনশাল্লাহ।

নায়ক হিসেবে আপনি সফল, নিসচা করেও সফল, নতুন এই সংগঠনের দায়িত্ব কতটা সফলতা পাবেন বলে মনে করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, নায়ক হিসেবে আমি কেমন তার প্রমাণ দর্শকদের কাছে আছে। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন কোথায় নিয়ে গিয়েছি সে সম্পর্কেও সবাই অবগত আছেন। এখন নতুন করে শিল্পী সমিতির যে দায়িত্বটা নিয়েছি তার সাকসেসটা নির্ভর করছে অন্যদের সহযোগিতার উপর। কারণ আমার আমার পুরো প্যানেল জয়ী হয়নি, তাই ভাবতে হচ্ছে অন্য প্যানেল থেকে যারা এসেছেন তারা কতটা আমাকে সহযোগিতা করবেন। এখানে যদি সকলের সহযোগিতা পাই তাহলে ইনশাল্লাহ আমি সফল হবো।

কাজের পরিকল্পনা নিয়ে বেদের মেয়ে জোছনা’ খ্যাত এই চিত্রনায়ক বলেন, এখনও কোনো পরিকল্পনা করা হয়নি। সবার সঙ্গে কথা বলার পরই পরিকল্পনা ঠিক করা হবে। এ বিষয়ে সকালে মিশা সওদাগরের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তাকে আমি বলেছি, তোমার যে অভিজ্ঞতাটা আছে সেটা আমাদের লাগবে। আমরা যে উপদেষ্টা কমিটি করবো সেখানে মিশা সওদাগরকেও রাখবো। সে দুইবার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছে। অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে তার। তার সাহায্য আমার খুবই প্রয়োজন হবে।

আপনার জয়ের পেছনে কোন বিষয়টা বেশি কাজ করেছে বলে মনে করেন? জানতে চাইলে বলেন, আমি মনে করি ভালোবাসার উপরে কোনো জিনিষ নেই। এই ভালোবাসাই সব ক্ষেত্রে সবার আগে বেশি কাজ করে। সেই সঙ্গে আপনি যদি দেশপ্রেমিক হোন এবং দেশের মানুষের স্বার্থের কথা ভাবেন, সেটা নিয়ে কাজ করেন তাহলে তার ঠেকে থাকার কথা না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *