রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া টাকা মসজিদে দেওয়া যাবে কি?

বিভিন্ন সময় রাস্তা-ঘাটে ও পথে-গাড়িতে টাকা-পয়সা পাওয়া যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি ও চেষ্টার পরও যদি মালিক না পাওয়া যায়, তাহলে কী করতে হবে? অনেকে মসজিদে দিয়ে দিতে বলে। মসজিদে দিয়ে দেওয়া কি সমাধান? এটি জায়েজ না হলে করণীয় কী?

এর উত্তর হলো- রাস্তাঘাটে কুড়িয়ে পাওয়া টাকা-পয়সার ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান হলো, যদি টাকার পরিমাণ এত কম হয় যে— মালিক তা অনুসন্ধান করবে না, তাহলে কোনো ফকির কাছে তা সদকা করে দেবে। আর যদি অনেক টাকা বা মূল্যবান কোনো বস্তু পাওয়া যায় এবং মালিক এর খোঁজে থাকবে বলে মনে হয়, তাহলে ওই স্থান ও আশপাশ এবং নিকটবর্তী জনসমাগমের স্থানে (যথা মসজিদের সামনে, বাজারে, স্টেশনে ইত্যাদিতে) প্রাপ্তির ঘোষণা দিতে থাকবে এবং প্রকৃত মালিক পাওয়া গেলে— তার কাছে হস্তান্তর করে দেবে।

জাইদ ইবনু খালিদ আল-জুহানি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, কোনো হারানো জিনিস প্রাপ্তি প্রসঙ্গে আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এক বছর না হওয়া পর্যন্ত এর ঘোষণা দিতে থাক। যদি শনাক্তকারী কোনো লোক পাওয়া যায়, তাহলে তাকে তা ফেরত দাও। এর ব্যতিক্রম হলে, তুমি এর থলে ও থলের বন্ধনী সঠিকভাবে চিনে রাখো এবং এর মধ্যকার জিনিস গণনা করার পর কাজে ব্যবহার করো। তারপর মালিক এসে গেলে, তার কাছে এটা ফিরিয়ে দিও। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৫০৭; তিরমিজি, হাদিস : ১৩৭৩)

এর পরও যদি মালিক না পাওয়া যায়, মালিকের সন্ধান পাওয়া যাবে না বলে প্রবল ধারণা হয় তাহলে তা কোনো গরিব-মিসকিনকে সদকা করে দেবে। প্রাপক দরিদ্র হলে সে নিজেও তা রেখে দিতে পারবে। ফতোয়ার কিতাবগুলোতে এ রকমই দিকনির্দেশনা দেয়া আছে।

কিন্তু রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া টাকা মসজিদে দান করা যাবে না। কারণ মসজিদে দান করতে হলে ওই টাকা ব্যক্তির নিজ মালিকানাধীন হতে হবে। (ফাতহুল কাদির, বাহরুর রায়েক, তাবয়িনুল হাকায়েক, দুররুল মুখতার)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *