নির্বাচন আর বিয়ে করতে গেলে গুজব ছড়ায়: জায়েদ খান

এফডিসিতে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। আগামী ২৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা। এফডিসিতে প্রতিদিন ভিড় করছেন শিল্পীরা। সিনেমাপাড়ায় বিরাজ করছে নির্বাচনী আমেজ।

নির্বাচন ঘিরে দুই পক্ষের আলোচনা-সমালোচনা আর কথার লড়াই যেন থামছেই না। চলচ্চিত্র তারকাদের এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দুটি প্যানেল কাঞ্চন-নিপুণ ও মিশা-জায়েদ পরিষদের মধ্যে।

নির্বাচনের একদিন আগে তৃতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রার্থী হওয়া জায়েদ খান এক সাক্ষাৎকারে জানালেন এবারের নির্বাচনে কাদা–ছোড়াছুড়ি সবচেয়ে বেশি। এ ঘটনায় তিনি অবাক ও ব্যথিত।

জায়েদ খান বলেন, শিল্পী হিসেবে শিল্পীদের টেনে নিচে নামানোকে ধিক্কার জানাই। কারণ, এসব কাদা–ছোড়াছুড়ির কারণে তৃতীয় পক্ষ সুযোগ নিচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব কাদা–ছোড়াছুড়ি চলচ্চিত্রশিল্পীদের ভাবমূর্তি একেবারেই শেষ করে দিচ্ছে। শিল্পীদের কিছু বিষয় নিজেদের মধ্যে থাকা দরকার। অথচ এখানে লোক ডেকে এনে মিথ্যা তথ্য দিয়ে একজন শিল্পীকে কিছু বলার অর্থ সবাইকে ছোট করা। এটি শিল্পীদের চর্চা হতে পারে না।

ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হলে আপনার ভূমিকা কী থাকছে? জানতে চাইলে বলেন, আমি বলছি, সবার শুভবুদ্ধির উদয় হোক। শিল্পীরা মানবিক হোক। এটা শিল্পী সমিতি, চর দখলের বিষয় নয় যে গায়ের জোর খাটাব। এখানে কেউ আমরা সারা জীবন থাকতে আসিনি। আমরা সবাই একসঙ্গে শৈল্পিক নির্বাচন চাই।

ভোট চাইতে গিয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়েছে? এমন প্রশ্নে জায়েদ খান বলেন, না, কিন্তু বাইরের অনেক উৎসুক দর্শকের জন্য ঠিকমতো ভোটই চাইতে পারছি না। বাজারের মতো মানুষ। ধাক্কাধাক্কি লেগেই থাকে। অনেক সিনিয়রকে আনতে পারছি না। কার কী হয়। পরে আবার আমার দোষ হবে। কোনো কিছু হলেই একদল লোক জায়েদের দোষ ধরে বেড়ায়। তবে প্যানেলের সিনিয়ররা চাইলে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো যায়। পরিবেশ নিয়েই কিছুটা শঙ্কিত আমি।

কেন জায়েদের দোষ ধরে? তিনি বলেন, এটা আমি মেনে নিয়েছি—যে কাজ বেশি করে, তার দোষও বেশি। যারা কাজগুলো করতে পারবে না, তারাই দোষ ধরে বেড়ায়।

এটাও শোনা যাচ্ছে, আপনার পেছনে এফডিসির বাইরের শক্তি রয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাবে জায়েদ খান বলেন, এসব অল্প কিছু মানুষের গুজব। নির্বাচন আর বিয়ে করতে গেলে গুজব ছড়াবেই। আমি শিল্পীদের পাশে থাকার জন্য নির্বাচন করছি। আমার পরিবারের একটা অংশ আমাদের শিল্পীরা। পরিবারের বাইরে এখানেই সবচেয়ে বেশি সময় কাটে আমার।

জায়েদ-মিশা আবার একসঙ্গে, এই যোগসূত্রের রহস্যও জানান ঢাকাই সিনেমার এই নায়ক। বলেন, মিশা ভাইকে সভাপতি হিসেবে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। তিনি আমার অভিভাবক, বড় ভাই। দেখবেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে রেষারেষি থাকেই। কিন্তু মিশা ভাইয়ের সঙ্গে দুই টার্ম শেষ করে আবার নির্বাচন করছি। আমরা আত্মার আত্মা। শিল্পীদের জন্য আমাদের বোঝাপড়া ভালো। তাঁকে আমি বারবার সভাপতি হিসেবে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *