আন্দোলনে ‘টাকা দেওয়ায়’ শাবির সাবেক ২ ছাত্রকে আটকের অভিযোগ

আন্দোলনকারীদের টাকা দেওয়ার অভিযোগে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সাবেক ২ শিক্ষার্থীকে আটকের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে তাদের আটক করা হয়েছে।

আটকরা হলেন- শাবিপ্রবির আর্কিটেকচার বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী রেজা নূর মুঈন ও সিএসই বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান।

এতে চলমান উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনের আন্দোলনকারীদের ‘টাকা পাঠানোয়’ রেজা নূর মুঈনকে আটক করা হয়েছে বলে মনে করেছেন তার স্ত্রী ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী জাকোয়ান সালওয়া তাকরিম।

সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তিনি সংবাদমাধ্যমের কাছে বলেন, ‘রেজা সন্ধ্যায় উত্তরা অ্যাগোরার কাছে মুদি কেনাকাটার জন্য গিয়েছিলেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাকে সিআইডির সাইবার ক্রাইম ইউনিট তুলে নেয়।’

পরে তারা রেজার গাড়ি ফেরত দিতে বাসায় আসে এবং জানায় যে রেজাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিআইডি সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

তার ধারণা, শাবিপ্রবিতে চলমান উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনের আন্দোলনকারীদের ‘টাকা পাঠানোয়’ রেজাকে আটক করা হয়েছে।

তারা দুজনেই শাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছি এবং কিছু অর্থ সহযোগিতা করেছি।’

‘আমাদের কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না। শুধু জুনিয়রদের সাহায্য করার জন্য টাকা দিয়েছি,’ যোগ করেন তিনি।

তবে আটকের বিষয়ে জানতে সিআইডির মুখপাত্র আজাদ রহমান এবং সাইবার পুলিশ সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল ইসলাম তালুকদারকে একাধিকবার কল করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফোনে মেসেজ পাঠালে, তারও উত্তর দেননি।

এর আগে সোমবার শিক্ষার্থীরা জানান, শাবিপ্রবির যেকোনো কর্মসূচিতে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা যৌথ উদ্যোগে তহবিল গঠন করে থাকেন। এ আন্দোলনেও সেভাবেই অর্থ সংগ্রহ চলছিল। তবে সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে রকেট, নগদ, বিকাশ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টসহ মোট ছয়টি অ্যাকাউন্ট থেকে তারা কোনো লেনদেন করতে পারছেন না। এমনকি ওই নম্বরগুলোতে ফোন কল আসছে না এবং যাচ্ছেও না।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, গত রাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আর্থিক লেনদেনের ছয়টি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *