দর্শক রূপালী পর্দায় নায়ক-নায়িকা বা খল অভিনেতাদের অভিনয় দেখতেই অভ্যস্ত। এবার সিনেমার দর্শকরা বাস্তব জীবনে ভোটের মাঠে নায়ক বনাম নায়িকা, নায়ক বনাম ভিলেনের মুখোমুখি ভোটযুদ্ধ দেখতে পাবেন।
আগামী ২৮শে জানুয়ারি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি পদে স্বনামধন্য চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন লড়বেন জনপ্রিয় খল অভিনেতা মিশা সওদাগরের বিপক্ষে।
এদিকে এ নির্বাচনে মিশা সওদাগরের প্যানেলে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন জায়েদ খান। বিগত দুই মেয়াদে একই পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। অন্যদিকে একই পদে ইলিয়াস কাঞ্চনের প্যানেল থেকে জায়েদ খানের সঙ্গে লড়বেন চিত্রনায়িকা নিপুণ।
এই নির্বাচনকে ঘিরে সরগরম এফডিসি। তারকাদের আনাগোনায় মুখর সিনেমার আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত এ আঙিনা। পক্ষে-বিপক্ষে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, তর্ক-বির্তকও চলছে সমানতালে।
এরইমধ্যে নিজেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানাতে সম্প্রতি এক জাতীয় দৈনিকের মুখোমুখি হন সভাপতি প্রার্থী মিশা সওদাগর।
এসময় তিনি বলেন, আমার প্রতি এবং আমার আগের ক্যাবিনেটের প্রতি সহকর্মীদের আস্থা আরও বিপুলভাবে বেড়েছে। তাঁরা মনে করেন, আমাকে দিয়ে শিল্পীদের সেবা হবে। তা ছাড়া শিল্পীদের অনেক সুযোগ–সুবিধা নিয়ে কাজ করছি। আমরা ১২ লাখ টাকার বেশি ফান্ডে জমা করেছি; যা আগে কেউ করেননি। যেটুকু বুঝতে পেরেছি, অসমাপ্ত অনেক কাজের জন্য সহকর্মীরাই বলেছেন, মিশা ভাই, আপনি আরেকবার থাকেন। আমাদের শিল্পীদের অনিশ্চয়তার কথা ভেবেই নির্বাচন করছি।
কয়েক দিন আগেও ফেসবুকে আপনাদের প্রচারণায় দেখা যায়নি, এমন প্রশ্নের জবাবে মিশা বলেন, আমরা এর আগে অফিশিয়ালি ডিক্লিয়ারে না যাওয়ার কারণে ফেসবুকে প্রচারণায় ছিলাম না। এখন আমরা নিয়মিত প্রচারণায় সরব আছি। আর আমাদের জায়েদ খান কোনো কিছু ফেসবুকে বেশি দিলেও বদনাম হয়। আবার পোস্ট না দিলেও জায়েদের নামে বদনাম। এখন বেচারা কী করবে। ওকে বলেছি ঠাকমতো সবকিছু ফেসবুকে পোস্ট করতে। এখন আমরা অনলাইন, অফলাইন—সব জায়গায় রয়েছি।
তিনি বলেন, ইলিয়াস কাঞ্চন ভাই আমার হিরো, আমার বড় ভাই, আমার অভিভাবক। তবে একটি বিষয় নিয়ে বলব, শিল্পী সমিতিকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে গিয়েছি যে আমাদের উপদেষ্টাই স্বয়ং নির্বাচন করছেন। ইলিয়াস কাঞ্চন ভাই আমাদের উপদেষ্টা ছিলেন। একজন একুশে পদকপ্রাপ্ত লোকও শিল্পী সমিতির সেবা করতে চান। তার মানে আমাদের গত পরিষদ এমন হাইপ তুলেছে, যার কারণে ইলিয়াস কাঞ্চন ভাই সেবা করার জন্য আসতে চাইছেন। এটা ভালো দিক। আমাদের ওপর সেই আস্থা রাখলে ভুল করবে না সহকর্মীরা। আমার অ্যাডভাইজার আমার বিপরীতে—এটা আমার কাছে অনেক বড় ব্যাপার।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বলেন, ভূমিহীন শিল্পীদের আবাস নিয়ে কাজ করছিলাম। সেটা আবার ভূমি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে শুরু করব। ১৮৪ জন শিল্পীর নানা কারণে বাদ পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে যোগ্যদের সদস্য পদ ফিরিয়ে দেওয়া নিয়ে কাজ করব। ইশতেহারে আমরা বিস্তারিত জানাব। এটুকু বলব, শিল্পীদের জন্য আগে যে কাজ হয়নি, এমন বেশ কিছু কাজ আমরা করব।
