ব্রাহ্মণবাড়িয়া- জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য এবং বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, মানুষ জেগে উঠেছে। আমরা একসঙ্গে, একযোগে এই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাটি থেকে সরকার পতনের আন্দোলনের ঘোষণা দিচ্ছি। আপনারা আমাদের হাতকে শক্তিশালী করবেন।
শনিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের বটতলী বাজারে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে জেলা বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
এই সমাবেশে যাওয়ার পথে আশুগঞ্জে রুমিন ফারহানাকে আড়াই ঘণ্টা আটকে রাখে পুলিশ। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
রুমিন ফারহানা বলেন, বেগম জিয়া নিজের পায়ে হেঁটে কারাগারে গেছেন। এখন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন না। এর দায় সরকারকে নিতে হবে। খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা কেন করা হচ্ছে না? সরকারকে এর জবাব দিতে হবে। সরকার মনে করে, খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য বিদেশে গেলে, সরকারের অনেক কিছু বের হয়ে আসবে। সরকারের অনেক ভয়। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে ভয়। তারেক রহমানকে ভয়। অনেককে ভয় সরকারের। এই কারণে তাঁকে (খালেদা জিয়া) ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঢেলে দিচ্ছে সরকার।
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ‘আমার ভাইয়েরা, আপনারা জেগে উঠেছেন, আমি দেখতে পাই। যত দূর চোখ যায়, শুধু বিএনপির নেতা–কর্মী, বিএনপির নেতা–কর্মী। তাঁরা পুলিশকে ভয় পান না, প্রশাসনকেও ভয় পান না। আমরা যাঁরা ঢাকা থেকে এসেছি, রাস্তায় রাস্তায় আমাদের গাড়ি থামিয়েছে পুলিশ। গতকাল আমাদের নেতা–কর্মীদের তারা গ্রেপ্তার করেছে। কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে তারা তল্লাশি চালিয়েছে।
কিন্তু তারা আমাদের কোনোভাবেই দমাতে পারেনি। আমি শেখ হাসিনাকে বলব, জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া তো ক্ষমতায় আছেন। এসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাটি দেখে যান। আমার কোটি কোটি ভাইয়ের সমর্থন দেখে যান। ব্রাহ্মণবাড়িয়া তো সেই মাটি, যেখানে মোরগও লড়াই করে বেঁচে থাকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সেই মাটি, যেখানে অলি আহাদ ১৯৫২ সালে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেছিলেন। ভাষা আন্দোলনে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করেছিল। সেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাটিতে ১৪৪ ধারা কাজ করে না। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষকে ১৪৪ ধারা দিয়ে আটকে রাখতে পারবেন না।’
